করোনা ও শিংগেলস টিকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু গবেষণাপত্র প্রকাশে বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। মঙ্গলবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও জনসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এইচএইচএসের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু নিক্সন এক ইমেইল বার্তায় রয়টার্সকে জানান, গবেষণাপত্রগুলোর উপসংহার নিয়ে উদ্বেগ থাকায় সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, লেখকরা এমন কিছু বিস্তৃত সিদ্ধান্ত টেনেছিলেন যা মূল তথ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। সংস্থার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং উচ্চমান নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে টিকার সহজলভ্যতা সীমিত করার জন্য বর্তমান প্রশাসনের একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে টিকার ঘোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির স্বাস্থ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে টিকা গবেষণায় তহবিল কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি টিকার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
এর আগে গত বছর আগস্ট মাসে এমআরএনএ টিকা তৈরির কাজে বরাদ্দ প্রায় ৫০ কোটি ডলারের তহবিল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। যার ফলে ফেডারেল সরকারের তদারকিতে থাকা অন্তত ২২টি প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া গত জুনে কেনেডি সমর্থিত একটি প্যানেল ফ্লু শট থেকে থিমারোসাল নামক উপাদানটি সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়, যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর দীর্ঘকালীন নিরাপত্তার প্রমাণ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে শিংগেলস টিকার মূল সরবরাহকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান জিএসকে। অন্যদিকে ফাইজার ও মডার্না করোনা টিকার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে। গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রথম প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ