তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজগম’ (টিভিকে) চমকপ্রদ ফল করলেও সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলেছেন জোহো-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি জানান, বর্তমানে কোনো দলের কাছেই সরকার গঠনের মতো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে জোট গড়ার চেষ্টা চলছে, তার ফলে একটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল সরকার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন তিনি।
ভেম্বু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তামিলনাড়ুতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করে পুনরায় নির্বাচন করানোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এই নির্বাচনে ‘ভোটের বিনিময়ে নগদ অর্থ’ লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, স্বচ্ছ নির্বাচন হলে বিজয়ের দল একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে আসবে। বিজেপি সম্পর্কে তার পরামর্শ, তামিলনাড়ুতে নতুন করে শুরু করার জন্য বিজেপির উচিত কোনো জোট ছাড়াই এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করা, তাতে ফলাফল শূন্য হলেও ক্ষতি নেই। অন্যদিকে, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে যদি বিজয়কে ঠেকাতে চায়, তবে তাদের একজোট হয়ে লড়াই করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
গত ২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয় ১০৮টি আসন দখল করে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তবে সরকার গড়ার ম্যাজিক নম্বর ১১৮ থেকে তিনি ১০ আসন পিছিয়ে আছেন। এই ঘাটতি মেটাতে বিজয় ইতোমধ্যে কংগ্রেসসহ ভিএকে, সিপিআই এবং সিপিআইএম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কংগ্রেস তাকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও অন্যান্য বাম দলগুলো এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। এমনকি এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী এবং বিজেপির মিত্র পিএমকে-র সঙ্গেও কথা চালাচ্ছে বিজয়ের দল।
বুধবার বিজয় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানালেও রাজভবন থেকে এখনো কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি। সূত্রের খবর, সমর্থনের দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি এবং সংখ্যার বিষয়ে রাজ্যপাল পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। ফলে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শপথ গ্রহণের সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত। এমতাবস্থায় শ্রীধর ভেম্বুর নতুন নির্বাচনের ডাক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিজয় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে মসনদে বসতে পারেন নাকি রাজ্য আবার ভোটের পথে হাঁটে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি