আফ্রিকান দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ও উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে তিন শতাধিক মানুষ এই বিরল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৮ জন।
এ পরিস্থিতিতে ‘জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
রবিবার (১৭ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবটি কোভিড-১৯ এর মতো এখনো বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি। সেজন্য এখনই আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য দেশগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশটি এই প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল। তবে সেখান থেকে প্রায় ৬২০ মাইল দূরে দেশের রাজধানী কিনশাসাতেও একজনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ইতুরি প্রদেশ সফর করেছিলেন। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রোগটি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ইতুরির সীমান্তবর্তী এবং কঙ্গোর অন্যতম জনবহুল এলাকা উত্তর কিভু প্রদেশেও বেশ কয়েকজন ইবোলা সন্দেহভাজন রোগীর খবর পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে পূর্ব কঙ্গোর বৃহত্তম শহর গোমার বিদ্রোহী সরকারও বিবৃতি দিয়েছে। তার বলছে, গোমারেও ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ইতুরি প্রদেশ থেকে এসেছেন। তাকে একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ইবোলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ভাইরাস। এটি সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত কিংবা বীর্যের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।
কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অবস্থা ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও দেশগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো রোগের আন্তর্জাতিক ঝুঁকি ও বিশ্বব্যাপী যৌথ মোকাবিলার প্রয়োজন দেখা দিলেই এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
পৃথক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, সংস্থাটি এবং কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৫ জন বিশেষজ্ঞের একটি দল ৭ টন জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও সরঞ্জাম নিয়ে ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিকায় পৌঁছেছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন জরুরি ঘোষণার অতীত প্রতিক্রিয়া নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৪ সালে কঙ্গোসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এমপক্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, সেই ঘোষণা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, ওষুধ ও টিকা পৌঁছে দিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
সূত্র: এপি
বিডি-প্রতিদিন/এমই