আটক আন্দোলনকর্মীদের নিয়ে উপহাসমূলক ভিডিও প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। গাজা অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী আন্তর্জাতিক নৌবহরের কর্মীদের সঙ্গে তার এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
একই ঘটনায় প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সারও। তাদের অভিযোগ, বেন-গাভিরের আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেন-গাভির কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, গাজাগামী নৌবহর থেকে আটক হওয়া প্রায় ৪৩০ জন কর্মীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় একটি অস্থায়ী কেন্দ্র ও জাহাজের ডেকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। অনেককে মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে একটি বড় ইসরায়েলি পতাকা নাড়াতে নাড়াতে বেন-গাভির বলতে শোনা যায়, ‘ইসরায়েলে স্বাগতম, আমরাই এখানকার মালিক।’ এ সময় হাতকড়া পরা এক আন্দোলনকর্মী ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ বলে চিৎকার করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
অন্য একটি ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উপহাস করে বেন-গাভির বলেন, ‘বড় বীর সেজে এখানে এসেছিল, এখন তাদের অবস্থা দেখুন।’ একই সঙ্গে তিনি তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে আটকে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান।
বেন-গাভিরের কর্মকাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। তিনি বলেন, ‘আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। আপনি ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করেন না।’
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, উস্কানিমূলক এ নৌবহর থামানোর অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। তবে একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ দেশটির মূল্যবোধ ও রীতিনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’। সংস্থাটি বলেছে, আটক কর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ দেশটির দীর্ঘদিনের ‘অপরাধমূলক নীতির’ অংশ। সংস্থাটির মতে, অতীতেও গাজা অভিমুখী নৌবহরের কর্মীদের ওপর একইভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে প্রতিবারই ইসরায়েল পার পেয়ে যাচ্ছে।
আদালাহ আরও জানিয়েছে, তাদের আইনজীবীরা আশদোদ বন্দরে আটক আন্দোলনকর্মীদের পাশে আছেন। তারা বন্দিদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইতালি আটক আন্দোলনকর্মীদের প্রতি এমন আচরণকে মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। দেশটি বেন-গাভিরের প্রকাশিত ভিডিওকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে। এছাড়া তুরস্ক ও গ্রিসও আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছে।
গাজা অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের পরিচালিত ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ দ্বিতীয় অভিযানটি সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর হয়ে গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরটিকে ঘিরে ফেলে দখলদার ইসরায়েলের নৌবাহিনী। এ সময় ৪১টি জাহাজে থাকা আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী ও ক্রুকে আটক করে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই সেখানে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি করে রেখেছে ইসরায়েল। সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলের এই অবরোধ আসলে গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরনের ‘সম্মিলিত শাস্তি’। তবে ইসরায়েলের দাবি, হামাস যাতে নতুন করে সশস্ত্র হতে না পারে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এপি
বিডি-প্রতিদিন/এমই