শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৯

জাতিসংঘ হাইকমিশনারের সফর বাতিল করল মিয়ানমার

জাতিসংঘ হাইকমিশনারের সফর বাতিল করল মিয়ানমার

রাখাইনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সফর স্থগিত করেছে মিয়ানমার। সম্প্রতি রাখাইনে নিরাপত্তা রক্ষাকারী ও জাতিগত আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে সংঘর্ষের পর তার ওই সফরে গত সপ্তাহে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতিসংঘের এক মুখপাত্র সোমবার বলেছেন, পূর্ব পরিকল্পিত হলেও ওই সফর স্থগিত করা হয়েছে। আরাকান আর্মির হামলায় মিয়ানমার পুলিশের ১৩ সদস্যের প্রাণহানি ঘটে। এই হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন্ট মিন্ট রাখাইনে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন। অভিযানে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। সোমবার জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে রাখাইনে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে রাখাইনে সফরে যাওয়ার কথা ছিল জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির। কিন্তু মিয়ানমার সরকার গ্রান্ডির রাখাইন সফর বাতিল করেছে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়েছে। সহিংসতায় বিধ্বস্ত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রদেশে সম্প্রতি আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আরাকান আর্মি হলো রাখাইনের জাতিগত একটি সশস্ত্র গ্র“প। তারা রাখাইনে বসবাসকারী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পুলিশের পোস্টে গত ৪ জানুয়ারি তারা হামলা চালায়। এতে নিহত হন মিয়ানমারের ১৩ পুলিশ সদস্য। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেসিক বলেছেন, মিয়ানমার সরকারের দেওয়া রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ফিলিপ্পোর ওই সফর স্থগিত করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রমতে, মিয়ানমারের সর্বশেষ পরিস্থিতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ সপ্তাহের শেষের দিকে তোলার কথা ব্রিটেনের। ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সফর বিলম্বিত করা ও জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টিন শ্রানার বার্গেনারের আলাদা সফর অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকটের বিষয়টি থেকে পূর্ব প্রতিশ্র“তি থেকে সরে এসেছে মিয়ানমার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একজন কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমার চায় না সেখানকার কোনো ঘটনা বা কোনো ঘটনার বিন্দুমাত্র উন্মোচিত হোক।


আপনার মন্তব্য