শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০৭

রহস্য রেখেই তদন্ত শেষ

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়া আঁতাত

রহস্য রেখেই তদন্ত শেষ

৫০০ সাক্ষাৎকার, ৫০০ তল্লাশি পরোয়ানা এবং ২ হাজার ৩০০ লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্যের পর ২৩ মাস তদন্তের শেষে প্রকাশিত হলো মুলার রিপোর্ট। বহু প্রতীক্ষিত এ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘তদন্তকারীদের সামনে এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতি ছিল যার ফলে সত্যিই বলা মুশকিল যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ে তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন কিনা। হোয়াইট হাউসের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার যেটুকু আইনি স্বাধীনতা ছিল, তাতে রুশ হস্তক্ষেপের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারের সম্পর্ক ছিল কিনা, বলা সম্ভব নয়।’ এ বক্তব্য মার্কিন নির্বাচনে রুশ আঁতাত নিয়ে গঠিত তদন্ত দলের প্রধান সাবেক এফবিআই-প্রধান রবার্ট মুলারের। তিনি এও বলেছেন, ‘কংগ্রেস চাইলে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।’ ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠায় এ নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারকে। রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশে সেই নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার কোনো ঘনিষ্ঠ সহযোগীর হাত ছিল কিনা বা তারা পরবর্তী সময়ে এ তদন্তে কোনো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিনা, তা-ই ছিল এ তদন্তের মুখ্য বিষয়।

গতকাল ৪৪৮ পাতার এ রিপোর্টের একটি ‘সম্পাদিত সংস্করণ’ প্রকাশ করেছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। রিপোর্ট প্রকাশের দেড় ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বিচার বিভাগের দফতরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

প্রতিবেদনে কী আছে? মুলারের প্রতিবেদনে নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের প্রচার শিবির ও রাশিয়ার মধ্যে আঁতাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলা হয়। তবে এও বলা হয়, ট্রাম্প এ তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো উপসংহারে তারা পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের এক আইনজীবীকে বলেছিলেন, ‘স্বার্থের দ্বন্দ্বের’ অভিযোগ তুলে তিনি যেন মুলারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ‘ট্রাম্পের ওই নির্দেশ পালনের ইচ্ছা না থাকায়’ ওই আইনজীবী পদত্যাগ করেন। তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প বার বার এটা নিয়ে খেদোক্তি করেছেন। তিনি এমনও বলেছেন, ‘হা ঈশ্বর, এটা ভয়ঙ্কর। আমার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ এখানেই শেষ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের সদস্যরা তার ‘নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি’ জানানোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচার প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য যে বাধা দিতে চেয়েছিলেন তা ব্যর্থ হয়েছে।

 

ডেমোক্র্যাটরা কী বলছেন : প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুই কংগ্রেসনাল ডেমোক্র্যাটিক নেতা ন্যান্সি পেলোসি ও চাক সুুমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ওই প্রতিবেদনে ‘একজন প্রেসিডেন্টের বিরক্তিকর ভাবমূর্তির চিত্র ফুটে উঠেছে। যিনি দিনের পর দিন প্রতারণা, মিথ্যা ও অসংযত আচরণ করে আসছেন।’ তারা তদন্তকাজে ট্রাম্পের বাধা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে মুলারকে কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন। কংগ্রেস সদস্য জ্যাকি স্পেইর বিবিসিকে বলেন, ‘মুলার আসলে বল কংগ্রেসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং বলতে চাইছেন, “এখানে বিচারে বাধা দেওয়ার বিষয়টি আপনাদের খুঁজে দেখা প্রয়োজন”।’ এদিন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সমালোচনাও করেছেন ডেমোক্র্যাটিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, গত মার্চে মুলারের তদন্ত প্রতিবেদনের যে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন তা কংগ্রেসকে ‘ভুল দিশা’ দিয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে ওঠেন টুইটার-প্রিয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রথমে পোস্ট করেন একটি ভিডিওর কোলাজ। ৫৪ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে অসংখ্যবার ‘নো কলিউশন’ বা ‘যোগসাজশ নেই’ বলে চলেছেন ট্রাম্প। কখনো পাশে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, কখনো বা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। কখনো তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়েছেন, কখনো হাঁটছেন হোয়াইট হাউসের লনে। মুখে একই বুলি- ‘নো কলিউশন’, ‘নো কলিউশন’, ‘নো কলিউশন’! তিন ঘণ্টার মধ্যে সেই ভিডিওর দর্শকসংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়।


আপনার মন্তব্য