শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মে, ২০১৯ ২৩:৩৯

কঠিন সময়ে হলো ইইউ পার্লামেন্ট ভোট

কঠিন সময়ে হলো ইইউ পার্লামেন্ট ভোট

লাখ লাখ ইউরোপীয় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে গতকাল ভোট দিয়েছেন। ২১টি দেশে জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি ও ইউরোপপন্থি শক্তির মধ্যে একটিকে বেছে নেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাতটি দেশ ইতিমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফেলেছে। বাকি দেশগুলো ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর গতকাল রাতে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা। কঠিন একসময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আগামী অক্টোবরেই ইইউ থেকে বের হয়ে যাবে ব্রিটেন। অনেক বিশ্লেষক অদূর ভবিষ্যতে ইইউর বেঁচে থাকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। এর মধ্যেই ভোট হলো ইইউ পার্লামেন্টের। নির্বাচনে ইউরোসেপটিক দলগুলো স্ট্রাসবার্গের অ্যাসেম্বলিতে ৭৫১টি আসনের এক-তৃতীয়াংশতে জয়লাভ করবে বলে আশা করছে। ইতালির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মাতেও সালভিনি ও ফ্রান্সের ম্যারিনা লে পেন কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইউরোপবিরোধীদের নেতৃত্বে আছেন ব্রিটেনের ব্রেক্সিট পার্টির নাইজেল ফ্যারেজ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপন্থিদের নেতৃত্বে আছেন এবং লিবারেল পার্টি আশা করছে এই নির্বাচনে কট্টর জাতীয়তাবাদীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে। এদিকে মূলধারার দলগুলো ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতিসহ শীর্ষ স্থানগুলো দখলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডস প্রথম ভোট দিয়েছে। এরপর শুক্রবার আয়ারল্যান্ড ও চেক রিপাবলিক এবং শনিবার স্লোভাকিয়া, মাল্টা ও লাটভিয়া তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। ২০১৪ সালে শেষ ইইউ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্লোভাকিয়ার পক্ষে সবচেয়ে কম ভোট পড়ে। তারা ১৪ শতাংশেরও কম ভোট পায়। দেশটির মধ্যপন্থি  প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ কিসকা কট্টর ডানপন্থিরা লাভবান হচ্ছে বলে আশঙ্কা করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অন্যতম। এ ছাড়া বাকি দুটি হলো ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা পার্লামেন্টের সদস্যরা মূলত জোটভুক্ত দেশগুলোর জনগণের প্রতিনিধিত্ব¡ করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জোটের বিভিন্ন বিষয়ে আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করে। জোটের বাজেটের ক্ষেত্রেও ইইউ পার্লামেন্টে সম্মতির প্রয়োজন হয়। ইউরোপীয় কমিশন জোটের প্রশাসনিক বিষয়াদি এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকারগুলোর প্রতিনিধি সংবলিত কমিটি। ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরাই তাদের পছন্দমতো ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ ২১৯টি আসন পেয়েছিল ইউরোপের ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ধারার জোট এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৭টি আসন পেয়েছিল সামাজিক গণতান্ত্রিকদের জোট। এ ছাড়া পরিবেশবাদী সবুজ দলের জোট ৫২, লিবারেল গণতান্ত্রিক জোট ৬৯, বামপন্থি দলগুলোর জোট ৫২, ইইউবিরোধী ডানপন্থিদের জোট ৪২, কট্টরবাদী ইউরোপীয় জাতিগুলোর জন্য মুক্তি আন্দোলন ৩৬ এবং জোটবিহীন নির্বাচিত প্রতিনিধি ২০ জন। ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ইউরোপের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রুখে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শুধু জার্মানির বিভিন্ন শহরে ১৫০টি সংগঠনের ডাকে দেড় লাখ মানুষ জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদী দলের নেতারাও ইতালির মিলান শহরে তাদের নির্বাচিত করার জন্য একযোগে আহ্বান জানিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য