শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:৪১

অন্য খবর

করোনায় ছেদ পড়ল ৫১ বছরের দাম্পত্যে

ছয় মিনিটেই মৃত্যু স্বামী-স্ত্রীর

করোনায় ছেদ পড়ল ৫১ বছরের দাম্পত্যে

বিয়ের পর একসঙ্গে কেটে গেছে ৫১ বছর। কিন্তু করোনাভাইরাস সেই সম্পর্কে কাটল ছেদ। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে প্রাণ হারালেন স্ত্রীও। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর  সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সমীকরণের কথা ভাগ করে  নেন দম্পতির ছেলে। সে কাহিনি শুনে চোখে জল  নেটিজেনদের। ফ্লোরিডার বাসিন্দা বছর চুয়াত্তরের স্টুয়ার্ট বেকার এবং বাহাত্তর বছর বয়সী আন্দ্রিয়ান  বেকারের একমাত্র ছেলে সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তা  পোস্ট করেন। ওই দম্পতির ছেলে ভিডিওর মাধ্যমে বাবা-মায়ের জীবনের শেষ দিন কটার কথা উল্লেখ করেছেন। বাড্ডি বেকার জানান, ‘বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই তার বাবার জ্বর আসছিল। ওষুধপত্র খাচ্ছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন সুস্থ হয়ে যাবেন। মা প্রতি মুহূর্তে বাবার খেয়াল রাখছিলেন। তারপর একদিন বাবার অতিরিক্ত জ্বর আসে। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। একদিন আচমকা ওই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ফোন আসে। জানতে পারি বাবার শরীরে বাসা বেঁধেছে করোনাভাইরাস। মা তখন সুস্থই ছিলেন। তবু সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায়  রেখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, মায়ের শরীরেও অক্সিজেনের মাত্রা কম। তাই তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’ বাড্ডি আরও বলেন, ‘বাবার অবস্থা ক্রমে খারাপ হচ্ছিল। মা-বাবা দুজনে কাউকে ছেড়ে থাকতে চাইছিলেন না। তাই ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিই তাদের একসঙ্গে রাখব। একই ক্যাবিনে দুটি আলাদা বেডে তাদের রাখা হয়। একদিন হাসপাতাল থেকে জানানো হয় বাবা মারা গিয়েছেন। সেই শোক সামলে উঠতে পারিনি তখনো তার মাঝেই শুনি মাও মারা গিয়েছেন। বয়স বেড়েছিল। তবে বেঁচে থাকাকালীন কোনো অশান্তিই বেকার দম্পতির জীবনে ছেদ কাটতে পারেনি। পরিবর্তে একসঙ্গে হাতে হাত রেখে জীবনের সুখ, দুঃখ ভাগ করে নিয়েছিলেন তারা। মৃত্যুও আলাদা করতে পারল না তাদের।


আপনার মন্তব্য