শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৯

কেন এত ভয়াবহ সংক্রমণ আমেরিকা ও ইউরোপে

কেন এত ভয়াবহ সংক্রমণ আমেরিকা ও ইউরোপে

বিশেষজ্ঞরা অনেকবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সব নিষেধ উড়িয়ে থ্যাংকস গিভিংয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন লোকজন। পরিণতি আমেরিকায় দৈনিক সংক্রমণ ২ লাখ ছাড়িয়েছিল নিমেষে। বিশ্বের ১০ কোটি সংক্রমিতের পৌনে ৩ কোটি যুক্তরাষ্ট্রে। পৌনে ৫ লাখ মৃত্যু। সংক্রমণ মাত্রায় এশীয়দের থেকে অনেকটা এগিয়ে ইউরোপীয়রাও। ইতালি, স্পেনের অতিমারী পরিস্থিতিই তার উদাহরণ। কিন্তু কেন এমন হলো? তারই কারণ ব্যাখ্যা করলেন গবেষক নিধান বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল বাঙালি বিজ্ঞানী। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ইনফেকশন, জেনেটিক্স অ্যান্ড ইভালিউশন’-এ। লাখের ওপরে দৈনিক সংক্রমণ, হাজারের ওপরের দৈনিক মৃত্যু দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছিলেন, কেন এমন ভয়াবহ অবস্থা আমেরিকার! ন্যাশনাল সায়েন্স চেয়ার পার্থপ্রতিম মজুমদার জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির নিয়ম মেনেই একাধিক মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস বা সার্স কোভ-২। এর মধ্যে একটি মিউট্যান্ট করোনাভাইরাস ‘ডি৬১৪জি’। স্পাইক প্রোটিনের ৬১৪ নম্বর স্থানে মিউটেশন ঘটে অ্যাসপারটেট থেকে গ্লাইসিন অ্যামিনোঅ্যাসিড তৈরি হয়েছে। ভাইরাসের ওপরিভাগে থাকা স্পাইক প্রোটিন মানবকোষের এসিই২ প্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে কোষের গায়ে একটি ‘দরজা’ তৈরি করে। তার পর সেখান দিয়ে মানবকোষের ভিতরে ঢুকে গিয়ে ভাইরাস তার প্রতিলিপি গঠন করতে থাকে। গবেষক দলের প্রধান নিধান বিশ্বাস জানান, ডি৬১৪জি মিউট্যান্টে প্রথমটির পাশাপাশি আরও একটি দরজা খুলে যায়। দ্বিতীয় দরজাটি তৈরি করে মানবকোষে উপস্থিত প্রোটিন নিউট্রোফিল ইলাসটেজ। এটি থাকে ফুসফুসে। ব্যাকটিরিয়ার প্রবেশ রুখতে সাহায্য করে। কিন্তু নিউট্রোফিল ইলাসটেজ বেড়ে গেলে ফুসফুসের ক্ষতি। যা ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে।

পাশাপাশি সার্স-কোভ-২ সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রোটিনটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে মানবকোষের আর একটি প্রোটিন আলফা-১-অ্যান্টিট্রিপসিন (এএটি)। শরীরে এএটি তৈরি কমে গেলে নিউট্রোফিল ইলাসটেজ বেড়ে যায়। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দরজাটিও খুলে যায়। যা ঘটেছে ডি৬১৪জি মিউটেশনে। আমেরিকা, ইউরোপের ককেশিয়ানদের মধ্যে এএটি-উৎপাদনকারী জিনে মিউটেশন পরিচিত ঘটনা। ফলে এশীয়দের তুলনায় এদের শরীরে এএটি প্রোটিনের অভাব থাকে। এনআইবিএমজি-র বিজ্ঞানী দলের দাবি, এর জন্যই এশিয়ায় সংক্রমণ হার অনেকটাই কম ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায়।


আপনার মন্তব্য