শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৮

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান

জেলের হুমকি, সাঁজোয়া যানও আটকাতে পারছে না বিক্ষোভকারীদের

মিয়ানমারে আরও জটিল হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। এবার ইয়াঙ্গুনসহ বেশ কয়েকটি শহরে ঢুকে পড়েছে বার্মিজ সেনার সাঁজোয়া বাহিনী। ট্যাংক ও সামরিক ট্রাকের আওয়াজে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে নাগরিকদের বুক। শুধু তাই নয়, সরকার ও সেনা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য ২০ বছর পর্যন্ত জেল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। সারা দেশের বিক্ষোভকারীদের এ সতর্কতা দিয়েছে তারা। রবিবার অভ্যুত্থানবিরোধীদের খুঁজে বের করতে নতুন করে কিছু আইন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং কোনো পলাতক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করে নোটিস জারি করা হয়েছে। জান্তা সরকার বলছে, সশস্ত্র বাহিনীর সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে জেলসহ জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। আর এ অবস্থায় সে দেশে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে আমেরিকা।

জান্তা সরকারের এ হুমকি, রাস্তায় সাঁজোয়া যানের উপস্থিতি সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে সমবেত হতে দেখা গেছে তাদের। ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর গতকাল দশম দিনে বিক্ষোভ করেন বিক্ষোভকারীরা। ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন তারা এবং সেনাশাসনের অবসান চাচ্ছেন। এদিকে এক বিবৃতি জারি করে মিয়ানমারের মার্কিন দূতাবাস বলেছে, ‘ইয়াঙ্গুনসহ বেশ কয়েকটি শহরে বার্মিজ সেনার কার্যকলাপ বেড়ে গেছে। সেখানে তাদের সাঁজোয়া বাহিনী ঢুকে পড়েছে। ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সব নাগরিকের কাছে আমাদের আরজি, আপনারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। কারফিউ চলাকালে বাড়ি থেকে বের হবেন না।’ সেনা মোতায়েনের শুরুর দিকে ইয়াঙ্গুন থেকে মিয়ানমারের মানবাধিকার কর্মী ওয়াই ওয়াই নু একটি টুইট করে সাঁজোয়া বাহিনীর গতিবিধি তুলে ধরেন। মনে করা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের শায়েস্তা করতে বড়সড়ো অভিযানের পরিকল্পনা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাই গণতন্ত্রকামী প্রতিবাদীদের গ্রেফতার করতে শহরগুলোয় প্রবেশ করেছে সৈনিকরা।

ইয়াঙ্গুনে ইস্টার জে নাউ নামে একজন প্রতিবাদকারী বলেন, ‘এটি আমাদের ও দেশের ভবিষ্যতের লড়াই। আমরা সামরিক একনায়কতন্ত্রের অধীনে থাকতে চাই না। আমরা একটি সত্যিকারের ফেডারেল রাষ্ট্র চাই, যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে।’ বিক্ষোভের নবম দিনে রবিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাজ্য কাচিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভে গুলি চালায়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সামরিক বুটের তলায় পিষ্ট গণতন্ত্র। জনতার সরকার উপড়ে ফেলে মসনদে বসেছে সেনাবাহিনী।

 


আপনার মন্তব্য