শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৯

আর্মেনীয় ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা

Google News

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের হাতে বিপুলসংখ্যক আর্মেনীয়র মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে ফোনালাপে এ স্বীকৃতি দেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে মিত্র দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর জো বাইডেন এরদোগানের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দুই নেতার মধ্যে আলাপে এত দেরি হয়েছে। আর্মেনীয়রা প্রতিবছর ২৪ এপ্রিল তাদের ওপর সংঘটিত ‘গণহত্যা’কে স্মরণ করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এতদিন অটোমানদের ১৯১৫ সালের হত্যাযজ্ঞকে ‘ভয়াবহ খারাপ অপরাধ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে এসেছে; নেটো মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঠেকাতেই তারা এমনটা বলত বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই বাইডেন আর্মেনীয় ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি নিয়ে সরব ছিলেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ওই ‘গণহত্যা’কে স্বীকৃতি দিতে ওঠা একটি বিল ৪০৫-১১ ভোটে গৃহীত হলে সেসময় ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাইডেন তাকে স্বাগত জানান। আর্মেনীয়রা ওই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ১৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও তুরস্কের অনুমান মৃতের সংখ্যা এর পাঁচভাগের একভাগ হতে পারে। গণহত্যা গবেষকদের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারস (আইএজিএস) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ওই ঘটনায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করছে। পশ্চিমা গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করে এলেও অনেক ইতিহাসবিদের এতে আপত্তিও আছে। তুরস্কের ভাষ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়দের নির্বাসনে পাঠানোর ঘটনা বর্বরতার নজির হলেও, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী জাতিগোষ্ঠীটিকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে সেটি করা হয়নি।