শিরোনাম
বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩ ০০:০০ টা

রুশ বিমান ঘাঁটিতে হামলা

সুপারসনিক বোমারু বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

রুশ বিমান ঘাঁটিতে হামলা

রাশিয়ার বিমান ঘাঁটিতে ঢুকে হামলা চালাল ইউক্রেন। এ হামলায় রাশিয়ার একটি সুপারসনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দিয়েছে ইউক্রেন। মস্কো জানিয়েছে, গুলিতে একটি ড্রোন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেই ঘটনায় একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবি এবং বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের সলৎসি-২ বিমান ঘাঁটিতে তুপোলেভ তু-২২ বিমান আগুনে জ্বলছে। তুপোলেভ তু-২২ সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম সুপারসনিক বিমান। ১৯৬২ সালে নির্মিত এই বিমান প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি। তবে ইউক্রেনের শহরগুলোয় বিমান হামলায় এই বিমানগুলো ব্যবহার করে আসছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।

মস্কোর প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, মস্কোর সময় সকাল ১০টার দিকে মনুষ্যবিহীন একটি উড়োযান থেকে নভোগ্রাদ অঞ্চলের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। নভোগ্রাদের ওই এলাকাতেই রাশিয়ার সলৎসি-২ বিমান ঘাঁটি রয়েছে।

অবশ্য একটি টিইউ-২২ ধ্বংস হওয়ায় মস্কোর ৬০টি যুদ্ধবিমানের এই বহরে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে এ হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ভূখে র অনেক ভিতরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। কিয়েভ সম্প্রতি কয়েকশ মাইল দূরের মস্কোয় হামলা চালাতে কয়েক ডজন ড্রোন পাঠিয়েছে। সবশেষ হামলা চালানো সোলৎসি-২ বিমান ঘাঁটির দূরত্ব ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ মাইল।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবায়ানিন জানিয়েছেন, মস্কোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে পরবর্তীতে আরও দুটি হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউক্রেন সীমান্তের ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে আরও দুটি ড্রোন ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোর বড় তিনটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক দুটি বিমানবন্দরে আবার বিমান চলাচল খুলে দেওয়া হয়।

যদিও যেখানে মস্কোর এ ধরনের ৬০টি বোমারু বিমানের শক্তিশালী বাহিনী রয়েছে, সেখানে এই ক্ষতি খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এই হামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, রাশিয়ার অনেক ভিতরে ইউক্রেনের হামলা চালানোর সক্ষমতা দিনে দিনে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, তু-২২ বোমারু বিমানগুলো হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সুপারসনিক বম্বার, ন্যাটোর কাছে যার কোড নেম হচ্ছে ‘ব্যাকফায়ার’। ইউক্রেন যুদ্ধে হামলা চালাতে এই বোমারুগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর আধুনিক ভার্সন হচ্ছে তু-২২এম৩ যেগুলো ঘণ্টায় ২৩০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং ২৪ হাজার কেজি ওজনের অস্ত্র, বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।

সিরিয়া, চেচনিয়া, জর্জিয়া এবং ইউক্রেনে এই বিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর