বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি এখনো হয়নি। মাঝে-মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয়, আলোচনায় বসেন দুই দেশের নেতারা, এতটুকুই। এ নদী নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার তিক্ততার সমাধান এখনো হয়নি। এবার তিস্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কথা বলেছেন। একের পর এক প্রকল্পে তিস্তার মতো একসময়ের খরস্রোতা নদীকে মেরে ফেলা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা। এ ইস্যুতে সিকিম রাজ্য সরকার এবং দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে উদ্দেশ করে মমতার অভিমত, তিস্তার পানি দেওয়ার জন্য মাঝে-মাঝেই চিৎকার করে। কিন্তু তিস্তাকে যে বাঁচাতে হবে এটা নিয়ে তারা একবারও ভাবে না।’ সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা ও বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে গতকাল উত্তরকন্যায় (রাজ্য সচিবালয়) উপস্থিত থেকে এ মন্তব্য করেন মমতা ব্যানার্জি। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ থেকে শুরু করে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা। অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, ‘...কখনো সিকিমে ১৪টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করেছে, পানি বন্ধ করে দিয়েছে। বন্যা হলেই সব পানি এখানে চলে আসছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নকশালবাড়ি পুরোটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
একবারও কি ভেবেছে তিস্তাকে ব্লক করে দিয়েছে, এটা অপরাধ নয়? এটা কি সামাজিক অপরাধ নয়? এটা কি ফৌজিদারি অপরাধ নয়? কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দিল? তিস্তার পানি দেওয়ার জন্য মাঝে-মাঝেই চিৎকার করে। কিন্তু তিস্তা নদীকে যে বাঁচাতে হবে এটা নিয়ে তারা একবারও ভাবে না।’
এদিকে ভারতে কথিত বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়েও কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এ ইস্যুতে মমতার প্রশ্ন, ‘সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কার হাতে? ট্রেন, প্লেন পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব কার হাতে? কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো কার হাতে? একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার (অমিত শাহ) উচিত এখনই পদত্যাগ করা কারণ বিএসএফ, সীমান্ত রক্ষা, সিআইএসএফ সবকিছুই উনার দায়িত্ব।’