ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ জোটের কোনো দেশে হামলা চালাতে পারে। জার্মানিতে দেওয়া এক বক্তব্যে রুত্তে বলেন, ‘রাশিয়া এরই মধ্যে আমাদের (ন্যাটো) সমাজে গোপন অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের পূর্বপূরুষরা যে মাপের যুদ্ধ সহ্য করে এসেছেন, সেই ধরনের যুদ্ধের জন্য আমাদেরও প্রস্তুত থাকতে হবে।’ রুত্তে এ কথা মধ্য দিয়ে রাশিয়ার অভিপ্রায় নিয়ে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন সময়ের মূল্যায়নের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যা মস্কো বরাবরই ‘উন্মাদনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রুত্তের এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছিলেন, তার দেশ ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তবে ইউরোপ যদি যুদ্ধ শুরু করতেই চায় তাহলে রাশিয়া ‘এখনই’ প্রস্তুত আছে। ২০২২ সালে যখন রাশিয়ার প্রায় ২ লাখ সেনা সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনে ঢুকে পড়েছিল, তার আগেও পুতিন একই সুরে কথা বলেছিলেন। তাই পুতিনের এমন কথায় ভরসা নেই ইউরোপীয়দের। পুতিন অভিযোগ করেছেন, ইউরোপের দেশগুলো ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন শান্তি পরিকল্পনায় মস্কোর দিকে পক্ষপাতের অভিযোগে সেটি পরিবর্তনের চেষ্টায় সম্প্রতি ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলো যে ভূমিকা নিয়েছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে পুতিন এ অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পুতিন আন্তরিক নন, জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া মানে ইউরোপের নিরাপত্তারই নিশ্চয়তা বজায় রাখা। -রয়টার্স
তিনি বলেন, ‘ভাবুন, পুতিন তার লক্ষ্য অর্জন করে ফেলতে পারলে; ইউক্রেন রাশিয়ার দখলদারিতে সেনাদের বুটের নিচে চলে যাবে, তার বাহিনী ন্যাটোর সঙ্গে আরও দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে অবস্থান নেবে, আর আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।’ রাশিয়ার অর্থনীতি গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে কার্যত যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে আছে। রাশিয়ার কারখানাগুলো আরও বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। বিশ্ব অর্থনীতিবিষয়ক কিল ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ১৫০টি ট্যাংক, ৫৫০টি ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং যান, ১২০টি ল্যানসেট ড্রোন এবং ৫০টিরও বেশি কামান কিংবা মর্টারের মতো অস্ত্র উৎপাদন করছে। যুক্তরাজ্য এবং তাদের বেশির ভাগ পশ্চিমা মিত্র দেশই এই সক্ষমতার ধারেকাছে নেই। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বর্তমান অস্ত্র উৎপাদন সামর্থ্যরে কাছাকাছি পৌঁছাতে পশ্চিম ইউরোপের কারখানাগুলোর আরও বহু বছর লাগবে। ফ্রান্স ও জার্মানি সম্প্রতি তাদের ১৮ বছর বয়সি যুবকদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবা ব্যবস্থা নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যাটো জোটে ৩০টি ইউরোপীয় দেশ রয়েছে। এ ছাড়া আছে কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক দিক থেকে ন্যাটোর সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটোর অন্য সদস্য দেশগুলো আরও বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। বার্লিনে ন্যাটো মহাসচিব রুত্তে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ন্যাটোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আপাতত টিকে থাকতে পারে। কিন্তু ইউরোপের পাশেই সংঘাত চলছে। আর আমি শঙ্কিত যে, অনেকেই আত্মতৃপ্ত, অনেকেই জরুরি অবস্থা অনুভব করছেন না, অনেকেই ভাবছেন সময় আমাদের পক্ষে। ‘মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে হবে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর আমাদের নিরাপদ রাখতে যা প্রয়োজন, তা থাকতে হবে,’ বলেন ন্যাটো মহাসচিব।