অস্ট্রেলিয়ায় নিউসাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনির বন্ডি সৈকতে হামলাকারী বাবা ও ছেলের মধ্যে একজন ভারতীয়। আর তিনি হচ্ছেন বাবা সাজিদ আকরাম। সাজিদ মূলত ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদ নগরীর বাসিন্দা ছিলেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। ভারতে নিজের পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল খুব কমই। শেষবার ২০২২ সালে তিনি হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন। ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা সাজিদের ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে জানিয়েছেন এমন তথ্যই। তারা জানান, ১৯৯৮ সালে ছাত্র ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন হায়দরাবাদের তোলিচৌকির বাসিন্দা সাজিদ আকরাম। এরপর কোনো উপলক্ষে মাত্র দু-তিনবার তিনি ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। শীর্ষ এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, তার (সাজিদ) বাবা ২০১৭ সালে মারা যান। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতেও তিনি ভারতে যাননি। আরেক কর্মকর্তা জানান, সাজিদের বড় ভাই একজন ডাক্তার। তিনি হায়দরাবাদেই থাকেন। তাদের প্রয়াত বাবা ছিলেন ১৯৮৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তা। সাজিদ আকরাম হায়দরাবাদ থেকে কমার্সে গ্র্যাজুয়েশনের পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং পরে এক ইউরোপীয় নারীকে বিয়ে করেছিলেন। সাজিদ তার ভারতীয় পাসপোর্ট রেখে দিয়েছিলেন। সাজিদ আকরামের ছেলে নাবিদের জন্ম হয় ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ায়।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। রবিবারের হামলার ঘটনায় নাবিদও বাবার সঙ্গে হামলায় অংশ নেন। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাবা-ছেলের এই হামলার ঘটনা নিয়ে তদন্তে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষও। তেলেঙ্গানার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাজিদের ভারতে থাকা পরিবার বাবা-ছেলের উগ্রবাদী চিন্তাধারা বা এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনো কিছুই জানে না। কী পরিস্থিতিতে তারা এমন হামলা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কেও পরিবারের কোনো ধারণা নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পসি এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলে। সিডনির বন্ডাই সৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে তারা গত রবিবার হামলা চালান। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয় এবং পুলিশের গুলিতে হামলাকারী সাজিদ আকরামও নিহত হন। এ হামলা চালানোর আগে গত মাসেই ফিলিপিন্স ভ্রমণে গিয়েছিলেন সাজিদ ও নাবিদ। গোটা নভেম্বর মাসটা ফিলিপিন্সেই কাটিয়েছিলেন বাবা-ছেলে। অবশেষে ২৮ নভেম্বর রওনা দেন তারা। দাভাও থেকে ম্যানিলাগামী বিমানে চেপে রওনা দেন সিডনির উদ্দেশে। -রয়টার্স