লিবিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফনে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। ৩ জানুয়ারি সাইফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুক্রবার লিবিয়ার বানি ওয়ালিদ শহরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বানি ওয়ালিদ শহরে দাফন অনুষ্ঠানে গাদ্দাফি পরিবারের অনুগত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিল। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণ অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পরও তাঁর পরিবারের প্রতি সমর্থনের এ দৃশ্য লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে নিহত হন। তাঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চারজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করলে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলাম গুলির আঘাতে মারা গেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। জানাজায় অংশ নিতে সির্তে শহর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা ৩৩ বছর বয়সি ওয়াদ ইবরাহিম বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি আমাদের প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে।-আলজাজিরা
তিনি ছিলেন আমাদের নেতার পুত্র যাঁর ওপর আমরা আমাদের আশা ও ভবিষ্যৎ ভরসা রেখেছিলাম।’ একসময় সাইফ আল-ইসলামকে তাঁর বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। যদিও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না তবু তিনি কার্যত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতেন। নিজেকে সংস্কারপন্থি হিসেবে তুলে ধরে তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।