দ্বিপক্ষীয় পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী একটি বাণিজ্য রূপরেখায় রাজি হয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দুই দেশ এ-সংক্রান্ত যে রূপরেখা ঘোষণা করেছে, তাতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস, জ্বালানি সম্পর্ক পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দুই দেশ তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, নতুন এই রূপরেখায় একটি বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর আগে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজেদের বাজারে বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করতে রাজি হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার দণ্ড হিসেবে ট্রাম্প আলাদাভাবে যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, শুক্রবারই এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভারত চলতি সপ্তাহে তাদের তেল আমদানির উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে বেছে নেওয়ার পর ট্রাম্প এ পদক্ষেপ নিলেন। তবে নিজেদের কৃষিবাজার বড় পরিসরে উন্মুক্ত করার মার্কিন চাপে ভারত যে নতি স্বীকার করেনি যৌথ বিবৃতি থেকে তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।--রয়টার্স
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল সমাজমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ভুট্টা, গম, ধান, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য ও মাংসসহ সংবেদনশীল পণ্যগুলোকে ‘সম্পূর্ণ সুরক্ষা’ দেওয়ার মাধ্যমে এ চুক্তি কৃষকদের স্বার্থ ও গ্রামের মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেস এ চুক্তির সমালোচনা করে বলেছে, রূপরেখাটি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে করা হয়েছে যা ভারতীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একে ‘জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে দলটি। শুক্রবার প্রকাশিত রূপরেখায় আরও বলা হয়েছে, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনবে। যার মধ্যে রয়েছে তেল, গ্যাস, কয়লা, বিমান ও যন্ত্রাংশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্য।
বিনিময়ে ভারত সব ধরনের মার্কিন শিল্পজাত পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করবে। তবে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, জুতা ও প্লাস্টিকসহ বেশির ভাগ পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক হার বহাল থাকবে। এ ছাড়া জেনেরিক ওষুধ ও এর উপাদানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক হার নির্ধারিত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল এ রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে ভারতের রপ্তানিকারক, বিশেষ করে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে। আগামী মার্চে একটি আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। কৌশলগত উদ্বেগের জায়গা থেকে দুই দেশ সংবেদনশীল প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘তৃতীয় পক্ষের (চীনের প্রতি ইঙ্গিত) বাজারবহির্ভূত নীতি’ মোকাবিলায় একে অপরকে সহযোগিতার বিষয়েও একমত হয়েছে।