ভারতের গাজিয়াবাদে বহুতল ভবনের নবম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে তিন বোনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। এতে দেখা গেছে, এ তিন শিশুর বাবা চেতন কুমারের সঙ্গে ২০১৫ সালের আরেকটি আত্মহত্যার ঘটনার যোগসূত্র আছে। ফলে তিন বোনের মৃত্যুর ঘটনায় চলমান তদন্তটি নতুন মোড় পেয়েছে।
ওই তিন বোনের নাম পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও নিশিকা (১৬)। গত বুধবার ভারত সিটি আবাসিক কমপ্লেক্সে অবস্থিত অ্যাপার্টমেন্টের নবম তলা থেকে লাফ দেয় তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, এ তিন শিশু অনলাইনে কোরীয় গেমের প্রতি আসক্ত ছিল। তাদের বাবা-মা গেম খেলায় বাধা দিয়েছিলেন এবং ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন।
বাসা থেকে একে একে লাফিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যা, কী কারণ বলছে পুলিশ। মেয়েরা ঘরের দরজা ভিতর থেকে আটকে দেয় এবং বারান্দায় গিয়ে একে একে নিচে লাফিয়ে পড়ে। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। লাফিয়ে পড়ার শব্দে আবাসিক কমপ্লেক্সের অনেকে জেগে যান। ওই শিশুদের উদ্ধার করে দ্রুত লোনি এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
কোরীয় আসক্তি নিয়ে তদন্ত
তদন্তে জানা গেছে, তিন শিশু কোরীয় বিনোদন মাধ্যমগুলোর প্রতি বিশেষভাবে আসক্ত ছিল। আট পৃষ্ঠার ছোট ডায়েরিতে কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি তাদের এমন আসক্তির পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তির ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। ‘আত্মহত্যার নোটে’ বাবাকে উদ্দেশ করে ওই তিন শিশু লিখেছিল, ‘আমরা কোরীয়দের ভালোবাসি।’ ধারণা করা হচ্ছে, ওই তিন শিশু এমন একটি কোরীয় গেম খেলছিল, যার শেষ ধাপে আত্মহত্যা করতে হতো। তারা অনলাইনে নিজেদের জন্য কোরীয় নামও বেছে নিয়েছিল। - এনডিটিভি