ওমানে পারমাণবিক আলোচনার পরও ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই বৈশ্বিক শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, ইরানের জাতীয় শক্তি ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের চেয়ে জনগণের ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ়তার ওপর নির্ভরশীল। জনপ্রতিরোধ এবং দৃঢ় সংকল্পই শত্রুদের পিছু হটতে বাধ্য করবে।
ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বিক্ষোভের আগে গতকাল জারি করা এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ইরানি জনগণ অনুপ্রাণিত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অবিচল, কৃতজ্ঞ এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ এবং বিপদ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। ১৯৭৯ সালে ইরানি জাতি নিজেকে এবং দেশকে বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে একটি বড় বিজয় অর্জন করেছিল। তিনি আরও বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো তখন থেকে পূর্ববর্তী পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করে আসছে।
অথচ ইরানি জাতি এখনো অটল। আগামী বৃহস্পতিবার সমাবেশ এই দৃঢ়তার স্পষ্ট প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশব্যাপী মিছিলগুলোকে বিশ্বের অতুলনীয় বলে বর্ণনা করে বলেন, স্বাধীনতার কয়েক দশক পরেও, জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর এত বিশাল জনতা রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায় না। মানুষের উপস্থিতি জাতির শক্তি প্রদর্শন করে এবং ইরান, ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং ইরানি জনগণের স্বার্থের প্রতি উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে। খামেনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় শক্তি সামরিক সরঞ্জামের চেয়ে জাতির ইচ্ছাশক্তি এবং প্রতিরোধের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। এ দেশের জনগণ ইতোমধ্যেই তাদের দৃঢ়তা এবং দৃঢ়তা দেখিয়েছে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তা অব্যাহত রাখা উচিত। আয়াতুল্লাহ খামেনি বৈদেশিক শত্রুকে হতাশ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রুকে হতাশ না করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত একটি জাতি চাপ এবং ক্ষতির সম্মুখীন থাকে। আয়াতুল্লাহ খামেনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের তরুণরা বিজ্ঞান, কর্ম, ধর্মপরায়ণতা এবং নীতিশাস্ত্রের পাশাপাশি বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে, যা দেশের জন্য গর্ব তৈরি করবে। এবার ২২ শে বাহমান বিগত বছরগুলোর মতো ইরানি জাতির মহিমা আরও বৃদ্ধি করবে এবং অন্যান্য জাতি, সরকার এবং শক্তিকে ইরানি জনগণের সামনে বিনয় প্রদর্শনের জন্য পরিচালিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।