জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে গতকালের ভোটে একটি প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হয়েছে। চীন ও রাশিয়া প্রস্তাবে ভটো দিয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট। কলম্বিয়া ও পাকিস্তান ভোটদানে বিরত ছিল। ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আগে জাতিসংঘে এ ভোট হয়। হরমুজ প্রণালি বল প্রয়োগ করে খোলা নিয়ে চীন ও রাশিয়ার আপত্তির কারণে প্রস্তাবটি বারবার বদলানো হয়েছে। চীনের আপত্তির মুখে খসড়া প্রস্তাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ খোলার অংশটি বাদ দেওয়া হয়। সংশোধিত এ প্রস্তাবের ওপরই ভোট হয়েছে। আশা ছিল চীন ও রাশিয়া হয়ত প্রস্তাবে ভেটো দেবে না। কিন্তু তা হয়নি। তবে প্রস্তাবটি গৃহীত হলেও তা যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো প্রভাব ফেলত কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ, চীন ও রাশিয়া যাতে প্রস্তাবে ভেটো না দিয়ে অন্তত ভোটদানে বিরত থাকে সে চেষ্টায় বারবার খসড়া প্রস্তাব সংশোধন করতে গিয়ে সেটি ইতোমধ্যেই অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। হরমুজ খোলা নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবনাটি এনেছিল ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান প্রধান বাহরাইন। সেই প্রস্তাবে ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘সব প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বনের’ কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা এবং এ প্রণালি বন্ধে বাধা দিতে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স এতে তীব্র আপত্তি জানালে পরে প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়। সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো রকম পদক্ষেপের বিষয়টি প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া হয়। -রয়টার্স
এর পরিবর্তে হরমুজ খোলার জন্য ‘সব প্রয়োজনীয় আত্মক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা বলা হয়। কূটনীতিকরা বলেছিলেন, সংশোধিত এ খসড়া প্রস্তাব পাস হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। তবে তার পরও এটি পাস হবে কি না তা স্পষ্ট ছিল না। প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটও এর আগে একাধিকবার পিছিয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হতে গেলে এর পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয় ভোট প্রয়োজন এবং প্রস্তাবে পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভেটো পড়া চলবে না।