ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল ওয়ানসান এলাকা থেকে পূর্ব উপকূল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পিয়ংইয়ং।
এর আগে একই এলাকা থেকে আরও কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। -রয়টার্স
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে বলে সিউল ও ওয়াশিংটন প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ব্লু হাউস এক জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বৈঠক আহ্বান করে। একে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন এবং উসকানি হিসেবে অভিহিত করে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি এসব পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের ১০ মিনিট পর ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রে পড়েছে। টোকিও নিশ্চিত করেছে যে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেনি। জাপানের প্রধান কেবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এ কর্মকাণ্ড এ অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরীক্ষা নিয়মিত অস্ত্র উন্নয়নের অংশ হতে পারে। বিশেষ করে সলিড-ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানিচালিত ইঞ্জিনের পরীক্ষার সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে দ্রুত ও সহজে পরিচালনা করা যায়। চলতি বছর এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। প্রসঙ্গত, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কেবল একটি অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দেশ দুটি আনুষ্ঠানকিভাবে এখনো যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে।