লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এই সামরিক তৎপরতা বর্তমান যুদ্ধবিরতি এবং এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ‘চরমঝুঁকি’ তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৮ এপ্রিল লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের এই ব্যাপক হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানিয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।’ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব হামলায় শিশুসহ শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের এই ক্রমবর্ধমান প্রাণহানিতে গুতেরেস ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং তিনি লেবানন সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।’
এদিকে লেবাননে সাম্প্রতিক বিমান হামলার জন্য ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেছে স্পেন এবং একই সঙ্গে তেহরানে নিজেদের দূতাবাস আবার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস গতকাল বলেন, ইসরায়েলের এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিও ভঙ্গ করেছে। -রয়টার্স
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে আলবারেস বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কীভাবে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননে শত শত বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পশ্চিমা বিশ্বে স্পেনের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হয়েছে। মাদ্রিদ এই সংঘাতকে বেপরোয়া ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে এতে জড়িত যেকোনো উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছে। এদিনই আলবারেস ঘোষণা দেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে স্পেনের দূতাবাস ফের চালু করা হবে। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত তেহরানে ফিরে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ এবং দূতাবাস চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলবারেস বলেন, ’আমরা চাই, সম্ভাব্য সব দিক থেকে, এমনকি ইরানের রাজধানী থেকেও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে।’-রয়টার্স