শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৫

বসন্ত উচ্ছ্বাস চারদিকে

মোস্তফা মতিহার

বসন্ত উচ্ছ্বাস চারদিকে
বসন্তের অনুষ্ঠানে গতকাল তরুণীরা। ঢাবি চারুকলা থেকে তোলা ছবি —জয়ীতা রায়

পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে, কৃষ্ণচূড়ায়ও লেগেছে আগুন। পুরনো পাতা ঝরে গিয়ে বৃক্ষরাজি শোভিত হয়েছে নতুন কচি পত্রপল্লবে। ঋতুরাজের রাজসিক আগমনে রাজধানীসহ সারা দেশ মেতে উঠেছে বাসন্তী আবহে। হলুদিয়া রঙের বসনে  আর তারুণ্যের উন্মাদনায় হলুদ গাঁদার অনন্য সৌন্দর্যে অপরূপ সাজে সেজেছিল তরুণীরা। তরুণরাও অঙ্গে জড়িয়েছিল বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি। কারণ ফাগুন যে এসেছে ধরায়। আর ফাগুনের আগুনঝরা সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বসন্তের এমন পাগল করা বিকেলে এক হাতে প্রিয়জনের হাত, আরেক হাতে ছিল হলুদ গাঁদা। তবে খানিক পরই প্রিয়জনের হাতটি ছেড়ে তরুণীর হাতে শোভা পেয়েছে এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘গোয়েন্দা কাহিনী’। আর তরুণটিও এক হাতে প্রিয়াকে ধরে রেখে অন্য হাতে মির্জা মেহেদী তমালের ‘গোয়েন্দা কাহিনী’কে হাতে তুলে নিয়েছে। বসন্তের দিনে থাকবে প্রিয় লেখকের প্রেমের কবিতা কিংবা রোমান্টিকতায় ভরা কোনো প্রেমের উপন্যাস। অথচ এ দিনটিতে মেলাজুড়ে পড়ুয়াদের হাতে হাতে শোভা পেল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার মির্জা মেহেদী তমালের সাসপেন্সে ভরা এ বইটি। বিষয়টি একটু অবাক করার মতোই। তবে ‘গোয়েন্দা কাহিনী’ নিয়ে মেলায় আগতদের ভালো লাগা ও ভালোবাসার দুটি দৃশ্যের বর্ণনা দিলেই এ বিস্ময়ের অবসান ঘটবে।

বইটির পাঠকপ্রিয়তার খোঁজখবর নিতে একটু গোয়েন্দাগিরির আশ্রয় নিতেই বের হয়ে আসে আসল রহস্য। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশদ্বার দিয়ে একটু এগোলে মেলার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফোয়ারার কাছে গিয়ে দলবদ্ধ তরুণ-তরুণীর কথোপকথনে আড়ি পাতার পরই বেরিয়ে এলো আসল রহস্য। মেলায় আগত দলবদ্ধ এই পাঠকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল ‘গোয়েন্দা কাহিনী’ নিয়ে। একজন বলল, ‘‘বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিরিজ রিপোর্ট পড়েই আমি ‘গোয়েন্দা কাহিনী’র ভক্ত হয়ে যাই।’’ আরেকজনের কণ্ঠে শোনা গেল, ‘এই সিরিজটি যে বই আকারে আসবে ভাবতেই পারিনি।’ রাজধানীর বাড্ডা থেকে আগত সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের বিবিএর শিক্ষার্থী জয়নব রেবা বলেন, ‘‘আমি বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিয়মিত পাঠক। বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘গোয়েন্দা কাহিনী’র সবগুলো পর্ব পড়েছি। পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম এই সিরিজ রিপোর্টটি বই আকারে মেলায় এসেছে। শুধু এ কারণেই ছুটে আসা। তবে এসে জানলাম, দেড় শ পর্বের মধ্যে ৫০ পর্ব বইটিতে স্থান পেয়েছে। বইটি কিনে খুব ভালো লাগল। যদিও বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমি এই সিরিজ রিপোর্টের সবগুলো পর্বই পড়েছি। কিন্তু বই আকারে প্রকাশ হওয়ায় এটি এখন আমি সংরক্ষণ করে রাখতে পারব। বাকি পর্বগুলো দিয়ে যদি আরও বই বের হয়, আমি সেগুলোও কিনব।’’ এরপর সন্ধ্যার দিকে দলবদ্ধ আরও কয়েকজনের হাতে দেখা গেল ‘গোয়েন্দা কাহিনী’। তাদের মধ্যে সানজিদা জাহান নামের এক তরুণী এসেছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে। বইটির বিশেষত্ব নিয়ে এই তরুণী বলেন, ‘আসলে গল্প-উপন্যাস সবকিছুই তো কাল্পনিক। কিন্তু এই বইটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত ্এই লেখকের সবগুলো সিরিজ রিপোর্ট পড়েছি। বলতে পারেন সেই রিপোর্টগুলো পড়েই বইটি কিনতে আসা।’’ ‘গোয়েন্দা কাহিনী’র পাঠকপ্রিয়তায় বইটির প্রকাশক ‘অন্বেষা’র স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেনও উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘এই বইটি প্রকাশ করে আমি অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। বইটি নিয়ে আমি আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি।’ আগামীতে বইটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড প্রকাশ করবেন বলেও এ সময় জানান শাহাদাত হোসেন। তবে গতকাল মেলার ত্রয়োদশ দিনে প্রায় প্রতিটি স্টল ও প্যাভিলিয়নেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। ফাগুনের আগমনে এদিনের মেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল এক শৈল্পিক সৌন্দর্য। ফাগুন আর বইয়ের মিতালীতে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল মেলায় আগতরা। এদিন প্রায় সব ধরনের বই-ই বিক্রি হয়েছে। স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হওয়া প্রায় প্রত্যেকের হাতে হাতেই ছিল মলাটবদ্ধ বই। এতে কারও হাতে ছিল গল্প, কারও হাতে উপন্যাস কিংবা কবিতা। আজ ভালোবাসার দিনে বসন্তের সেই উচ্ছ্বাস ভালো লাগা ও ভালোবাসার মাত্রা আরও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রকাশকরা। গতকাল বিকেল ৫টায় মেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে ‘কাব্যধারায় বঙ্গবন্ধু’ নামের একটি কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ ছাড়া বিকেল ৪টায় মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫০টি। গতকালের উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো—যুক্ত প্রকাশিত হাসান আজিজুল হকের ভ্রমণকাহিনী ‘আমার যে দিন গেছে ভেসে’, আগামী এনেছে মোনায়েম সরকারের আত্মজীবনী ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম’, বিজয় প্রকাশ এনেছে রকিব হাসানের গোয়েন্দা গল্প ‘তিন রহস্য’ ইত্যাদি।


আপনার মন্তব্য