শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:১৭

ধারাবাহিকতা দেখতে চান ব্যবসায়ীরা

উন্নয়নে পিছুটানের সুযোগ নেই

—মো. জসিম উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়নে পিছুটানের সুযোগ নেই

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশ ও দেশের মানুষ, উন্নয়ন এবং মানবতার স্বার্থে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা চান ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়নে পিছুটানের সুযোগ নেই উল্লেখ করে দেশের এই শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা  না থাকলে মানুষের কর্মসংস্থান, দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে প্রভাব পড়ে। উন্নয়নবঞ্চিত হয় মানুষ। তাই আজকের একবিংশ শতাব্দীর তথ্যপ্রযুক্তির এই বিশ্বে জাতি হিসেবে আমাদের পিছিয়ে পড়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।’ দেশের অন্যতম শিল্পপরিবার বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ অর্জন, জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনার উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। দেশের এই শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এটা সম্ভব হয়েছে বিগত ১০ বছরে এই সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে। ভবিষ্যতেও বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, এর ধারাবাহিকতা থাকবে। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে। মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে আবার নির্বাচিত হতে পারে, সে জন্য সবার কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে রাজনৈতিকভাবে কেউ যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেদিকে সক্রিয় ও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আবার যাতে স্বাধীনতার পরাজিত সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী অপশক্তি ক্ষমতায় না আসতে পারে, সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। রাষ্ট্রকেও সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে আমাদের প্রয়োজন ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ। সেই লক্ষ্যে আমাদের ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হয়েছে। এগুলোর কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ হবে। সেখানে জমি বরাদ্দ হবে, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সব অবকাঠামো থাকবে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেই কর্মসংস্থান বাড়বে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করলে বাংলাদেশের শিল্পায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, এ আমার বিশ্বাস।’  তার মতে, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইকোনমিক জোনগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সরকারের উদ্যোগ শত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে শিল্পবিপ্লব ঘটবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীন, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, হংকং, সৌদি আরবসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা অর্থনীতিতে অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।


আপনার মন্তব্য