Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৩

নদী বাঁচাও ১৪

নরসুন্দা এখন ময়লার ভাগাড়

সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন, কিশোরগঞ্জ

নরসুন্দা এখন ময়লার ভাগাড়
১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীটি খনন করা হলেও নাব্য পায়নি নরসুন্দা, এখনো ময়লার ভাগাড় হয়ে আছে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী খনন করে লেকে পরিণত করা হয়েছে। খননের আগের অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা আরও করুণ। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীটি খনন করা হলেও নাব্য পায়নি নরসুন্দা নদী। নরসুন্দা নদী পুনঃখনন ও পুনর্বাসনের টাকা বেশিরভাগই লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় নদীটি ক্রমশ ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। অপরদিকে বাঁধ দেওয়ার কারণে কটিয়াদীর আড়িয়াল খাঁ নদ এখন গতিহারা। নদীর জমি প্রভাবশালীরা ভোগ দখল করছে। ২০১২ সালে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর ৩৫ কিলোমিটার পুনর্খনন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা যৌথভাবে কাজটি করে। প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। এ প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট তিনজন সচিব কিশোরগঞ্জে এসে গণশুনানি     করেন। তারা হলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় ও রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব সম্পদ বড়–য়া। গণশুনানিতে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ করেন। প্রকল্পকাজে ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) অনুসরণ করা হয়নি বলে উপস্থিত সবাই অভিযোগ করেন। শুধু নদী খননে লুটপাটই নয়, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নদীর দুপাড়ের অনেককে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি একাধিকবার সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত রিপোর্ট। নদীতে পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরিপানা ও ময়লা আবর্জনা জমে আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদীর দুপাশের ওয়াকওয়ের অনেক স্থান ধসে পড়েছে। তীর রক্ষায় বসানো ব্লক ওঠে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নদীটি ক্রমশ ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা মঞ্চের (পরম) সভাপতি অধ্যক্ষ শরীফ সাদী বলেন, আমরা নদী খনন করে লেক চাইনি। নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য নদীটি খনন করা হলেও সেটা হয়নি। বরং খননের আগের অবস্থার চেয়েও এখনকার অবস্থা ভয়াবহ। তিনি ডিপিপির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন এবং এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের বাস্তবায়ন দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আমলে হোসেনপুরের কাওনা নামক স্থানে নরসুন্দার উৎসমুখে বাঁধ দেওয়ার ফলে নদীটি তার নাব্য হারায়। অথচ এখনো সেই বাঁধ অপসারণ করা হয়নি। বরং নতুন করে দখল করা হচ্ছে নদী। তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান জানান, নদী পুনঃখনন ও পুনর্বাসনে অনিয়ম হওয়ায় ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করে সে টাকায় নতুন করে সংস্কার করা হবে। তবে ঠিকাদার অসুস্থ থাকায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এদিকে নদীটি হোসেনপুর থেকে কিশোরগঞ্জের নীলগঞ্জ পর্যন্ত খনন করা হলেও করিমগঞ্জ হয়ে ইটনার অংশ খনন করা হয়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেসব এলাকায় নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। করিমগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন অংশে কেউ কেউ নদীটিতে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করেছে। অপরদিকে কটিয়াদী উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দেওয়ার পর থেকে গতিহারা হয়ে পড়েছে নদ দুটি। জানা যায় ১৯৭৯ সালে কটিয়াদী থানার সামনে আড়িয়াল খাঁ নদে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি চর মান্দালিয়া এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদেও বাঁধ দেওয়া হয়। এতে নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায় নদ দুটি। ফলে নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও মুখ থুবড়ে পড়ে।

 

 


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর