Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩৯

ডাকসু নিয়ে কী হচ্ছে

পরিকল্পিতভাবে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ডাকসু নিয়ে কী হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ‘পরিকল্পিতভাবে’ প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। পৃথকভাবে এই অভিযোগ এনেছেন ছাত্রদল, বাম জোটের কয়েকজন প্রার্থীসহ একজন স্বতন্ত্র জিএস পদপ্রার্থী। ভোটার তালিকায় নাম না থাকা, তথ্যে অসম্পূর্ণতা ইত্যাদি কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। একই কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের অন্তত তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে না পেলে আদালত পর্যন্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্র্থী মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর রঙিন পোস্টারে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস। একদিকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার দাবি অন্যদিকে প্রচারণায় জমজমাট হয়ে উঠছে ডাকসু নির্বাচন। গতকাল ছুটির দিন হলেও হলে হলে এবং টিএসটি এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।

জানা যায়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র স্ব স্ব হলের রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করেন। ওইসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে ডাকসুর রিটার্নিং অফিস। এতে কেন্দ্রীয় সংসদের সাতজন ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে ২৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এর মধ্যে ছাত্রদলের ১০ জন, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য নিয়ে গঠিত বাম জোটের একজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম রয়েছে। এসব প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইতিমধ্যে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন। তবে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন অনেকটা পরিকল্পিতভাবেই তাদের প্রার্থিতা বাতিল করেছে বলে অভিযোগ এনেছেন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের অনেকে।  

ছাত্রদলের বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেনÑ কেন্দ্রীয় সংসদে সদস্য পদপ্রার্থী হাসনাইন সাবিত এবং সাবিত হোসেন, কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদে ভিপি পদপ্রার্থী তৌহিদুর রহমান, সার্জেন্ট জহুরুল হক সংসদে জিএস ফেরদৌস আলম, এজিএস প্রার্থী মো. একরামুল আলম, সাহিত্য সম্পাদক মেহেদী হাসান,             সমাজসেবা পদে আশরাফুল আলম, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ভিপি প্রার্থী নাহিদুজ্জামান শিপন, জিএস প্রার্থী মো. আলামিন, শামসুন্নাহার হলে ভিপি প্রার্থী মানসুরা আলম। সংগঠনটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার অভিযোগ, বৈধ ছাত্রত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের প্রার্থিতা বাতিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কিছু হাস্যকর কারণে আমাদের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। অথচ ভোটার তালিকায় নাম আসা সত্ত্বেও শামসুন্নাহার হলে ছাত্রলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত নিপু ইসলাম তন্বীর প্রার্থিতা বাতিল হয়নি। আমরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করব। তারা কোনো ব্যবস্থা না নিলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।

এদিকে শামসুন্নাহার হলের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৭৩৭ জন। তবে এই তালিকায় নাম নেই ডাকসুর সদস্য পদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত নিপু ইসলাম তন্বীর। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থীর তালিকায় তার ভোটার নম্বর-৩৭৩৮। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধীন সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হন তিনি। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়ও তার নাম আসেনি। ভোটার তালিকায় নাম না এলেও প্রার্থিতা বহাল আছে নিপু ইসলাম তন্বীর। ২০১১-১২ সেশনের এই ছাত্রী শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি।

এ ছাড়াও ছাত্রত্ব না থাকলেও তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত দুই প্রার্থীর নাম এসেছে। তারা হলেন, ভিপি পদপ্রার্থী সাইফুল্লাহ আব্বাসী ও এজিএস প্রার্থী সুরাপ মিয়া। সাইফুল্লাহ আব্বাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী। সুরাপ মিয়াও একই বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাদের মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো বিভাগ বা কোর্সে ভর্তি না থাকলে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে এ দুজন অন্য কোনো বিভাগ বা কোর্সে ভর্তি নেই। তবে ছাত্রত্ব না থাকলেও প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে তাদের প্রার্থী তালিকায় বৈধ দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়াও ভোটার তালিকায় নাম না আসায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে বাম জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজিরের। আর তথ্যের অসম্পূর্ণতার কথা উল্লেখ করে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমানের। ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিক বলেন, ‘ভোটার তালিকায় তার নাম না ওঠা থেকে বোঝা যায়, প্রশাসন পরিকল্পিতভাবেই প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এ ধরনের কর্মকা- স্বৈরতান্ত্রিক।’ এ সময় তিনি অবিলম্বে বেনজিরের প্রার্থিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে আসিফুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি নীলনকশার নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই নীলনকশার অংশ হিসেবে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা থেকে কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন তথ্যে অসম্পূর্ণতার কথা বলছে। কিন্তু কোথায় অসম্পূর্ণতা রয়েছে, তা তারা দেখাতে পারেননি।’ এসব অভিযোগের বিষয়ে ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসবে। তদন্ত না করে এগুলোর জবাব দেওয়া যাবে না। ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রার্থিতা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এদিকে যারা প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার প্রার্থিতা থাকবে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদনকারী প্রার্থীদের ফোনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ বিষয়ে প্রশাসনের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর