শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৯ ২৩:০৬

এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

শুধু একটা স্বপ্ন পূরণে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ফিরে এসেছি

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু একটা স্বপ্ন পূরণে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ফিরে এসেছি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল কেক কেটে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্বোধন করেন - বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৯৮১ সালে যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছি, সেদিন থেকেই আমি মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ফিরে এসেছি। বলতে গেলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই এসেছি। যে কোনো মুহূর্তে হয়তো আমাকে হত্যা করা হতে পারে, মারা যেতে পারি, সেটা জেনেই শুধু একটা স্বপ্ন পূরণে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ফিরে এসেছি।’ গতকাল দুপুরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে তিনি এসব কথা বলেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন এসেছি, তার কারণ হচ্ছে একটি স্বপ্ন। যে স্বপ্নটা জাতির পিতা দেখেছিলেন বাংলাদেশকে ঘিরে, দেশের মানুষকে ঘিরে। যে বাংলাদেশের মানুষকে তিনি সুখী-সমৃদ্ধিশালী করবেন। তাদের জীবন উন্নত করবেন। দুঃখ-দারিদ্র্যের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেবেন। সেই চিন্তাটাই তিনি করেছিলেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ করা কর্তব্য হিসেবে আমি নিয়েছি।’ সত্য কথা বলতে কখনো দ্বিধা করেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।’ দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যারা আমাদের সমর্থন দেয়নি, তাদের নানা রকম চক্রান্ত থাকবে। কিন্তু সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য সব সময় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতেও হবে। সব সময় সচেতন থাকতে হবে।’ এসএসএফের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নানা ধরনের প্রতিকূল অবস্থা বার বার সৃষ্টি হয়েছে। এসব চক্রান্ত মোকাবিলা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ। এটুকু বলব, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এসএসএফ সব সময় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এসএসএফের আনুগত্য ও উচ্চমানের পেশাদারিত্বÑ এটা আমাকে গর্বিত করেছে। দক্ষ পেশাদারির মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সব সময় সমুন্নত রেখেছে।’ উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তি যেমন আমাদের উন্নয়নের যাত্রাকে আরও সুন্দর ও দ্রুত করে, একইভাবে যারা অপরাধী তাদেরও সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। সেদিক থেকেও আমাদের সব সময় যুগোপযোগী থাকতে হবে। প্রযুক্তিকে যেন আমরা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারি। আর মন্দ কাজে যারা ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘এসএসএফের মতো একটা প্রতিষ্ঠান, তাদের সব সময় আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সেই সঙ্গে যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করার মতো সরঞ্জামাদিও দরকার। তিনি বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন অনেকে বিশ্বাস করতে চায়নি যে বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে বা পারবে। আজকে কিন্তু আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি।’ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং এসএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি পেইন্টিং ও ছবির বই তুলে দেন এসএসএফ মহাপরিচালক। পরে এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।


আপনার মন্তব্য