Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:২২

মৃত্যুর আড়াই মাস পর জীবিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রউফ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মৃত্যুর আড়াই মাস পর জীবিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রউফ!

২০ লাখ টাকা ঘুষ চেয়ে না পেয়ে মৃত ব্যক্তি, দেশের বাইরে থাকা লোককে সাক্ষী করে একটি হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশিট দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশ    ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ইন্সপেক্টর মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। আরও ২৪ জন সাক্ষী আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেছেন তারা কোনো সাক্ষ্য না দিলেও তাদের সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছেন তদন্তকারী ওই কর্মকর্তা।

গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আল আমিন হত্যা মামলার আসামি নবীনগরের বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান ভূঁইয়া। তিনি জানান, ডিআইজিসহ সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ ছাড়া দুবার ঘুষ বাবদ পিবিআই-এর ওই কর্মকর্তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোট ৩৯ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফ (৭৩) অন্যতম। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর আবদুর রউফ ইন্তেকাল করলেও সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি নেওয়ার তারিখ দেখানো হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। অর্থাৎ তার মৃত্যুর ২ মাস ২৯ দিন পর তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আরেকজন মেরাকুটা গ্রামের অজন্ত কুমার ভদ্রর (৬৬) সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু তিনি বৈধ পাসপোর্টে ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি ভারত যান। সেখান থেকে দেশে ফেরেন ৮ ফেব্রুয়ারি। আরও ২৪ জন সাক্ষী আদালতে এফিডেভিট জমা দিয়েছেন এই বলে যে, তারা পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তার কাছে কোনোরকম সাক্ষীই দেননি। নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামে ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আল আমিন (২২) খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কসবার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় এবং ২-৩ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পার্শ্ববর্তী সেমন্তঘর গ্রামের আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, তার ছেলে পলাশসহ (ইফতেখার মাহমুদ) মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়। হত্যা মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত করে পিবিআই। এর আগে প্রথমে সিআইডি এবং এরপর গোয়েন্দা পুলিশ এ মামলার তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ দুটি সংস্থার তদন্তেই প্রকাশ পায় আবদুল হান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির হোসেনের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ রয়েছে। আবদুল হান্নানকে শায়েস্তা করতে নিজের শ্যালককে হত্যা করে জাকির হোসেন। এরপর আবদুল হান্নান, তার ছেলেসহ ১০ জনকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। দুটি সংস্থার অভিযোগপত্রে বলা হয় ঘটনার আগের দিন ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী ইতির নানির বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির ও তার সহযোগী শাওন, বিল্লাল ও মোবারক। খাওয়া শেষে জাকির ইতিকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত খাবার খাইয়ে অচেতন করে আল আমিনকে নিয়ে পাশের বাড়িতে নাছির ফকিরের মাহফিলে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে হত্যা করে। এরপর লাশ গ্রামের একজনের বাড়িতে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি এবং গোয়েন্দা পুলিশ জাকির হোসেন (৩৮), তার সহযোগী বিল্লাল (৩৭), শাওন ওরফে রানা (৪২), মোবারক মিয়া (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগপত্র দেয়। অন্যদিকে পিবিআই এ ৪ জনকে নির্দোষ বলে তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে। এমনকি সিআইডির প্রথম দিকের তদন্তে ঘটনায় জড়িত বলে যে ৬ জনের নাম প্রকাশ পায় তাদের সাক্ষী বানিয়ে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন আবদুল হান্নান ভূঁইয়া।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর