Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:২৫

ভয়ঙ্কর গ্যাস সিলিন্ডার

৫ লাখ সিলিন্ডার এখনো টেস্টের বাইরে

বিশেষ প্রতিনিধি

ভয়ঙ্কর গ্যাস সিলিন্ডার

সড়ক-মহাসড়কে সিএনজিচালিত যানবাহনগুলোর প্রায় ৫ লাখ গ্যাস সিলিন্ডার ভয়ঙ্কর অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দেশে রূপান্তরিত ও আমদানিকৃত মিলিয়ে ৫ লাখ ৪ হাজার ৩০০ যানবাহন সিএনজিতে চলছে। এসব যানবাহনে ১ থেকে ৪টি পর্যন্ত সিলিন্ডার সংযোজিত রয়েছে। সে হিসাবে ৬ লাখের বেশি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে চলছে যানবাহনগুলো। দেশের সিএনজি খাত নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (আরপিজিসিএল)-এর আগস্ট পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে জানা গেছে, গত ২২ বছরে মাত্র ৯৩ হাজার ১৮১টি সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার বাইরে রয়ে গেছে ৫ লাখের বেশি যানবাহন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়ি বিধ্বস্তের পাশাপাশি মূল্যবান প্রাণহানিও ঘটছে। সরকারি হিসাবে সিএনজিচালিত যানবাহনের কারণে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হলেও ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানো যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড চাপে যখন গ্যাস ভরা হয় তখন রাস্তায় চলা একেকটি গাড়ি যেন চলমান বোমা হয়ে ওঠে। গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার এমনকি গ্যাসও উত্তপ্ত অবস্থায় থাকে। সিলিন্ডার যথাযথ না হলে বড় রকমের অঘটন ও প্রাণহানি ঘটতে পারে। বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ। প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার পাঁচ বছর পরপর রিটেস্ট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আরপিজিসিএলসহ সরকারের নানা প্রচেষ্টার পরও সিএনজিচালিত গাড়ির মালিক-চালকরা সিলিন্ডার রিটেস্টে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে রিটেস্টের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার সড়কের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বলা হচ্ছে, নিয়ম মেনে সিলিন্ডার পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নয়, গ্যাসসংক্রান্ত দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে ব্যবহারকারীর অসতর্কতায়। প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. শামসুল আলমের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, অসতর্কতা ও অজ্ঞতার কারণে যেনতেনভাবে সিলিন্ডার ব্যবহারে আগুন লেগে দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, মানুষ যদি সতর্কতার সঙ্গে নিয়ম মেনে সিলিন্ডার ব্যবহার করে, তবে দুর্ঘটনা না ঘটারই কথা। যেসব সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ, সেগুলো বাদ দেওয়া উচিত। এখন কেউ যদি বাদ না দিয়ে ব্যবহার করে, তবে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় সিলিন্ডার দুর্ঘটনা এড়াতে সব পক্ষকে সতর্ক হতে হবে। বেশি সচেতন হতে হবে ব্যবহারকারীকে। এক হিসাবে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে দেশে সিলিন্ডার-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ মারা গেছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে দুই শতাধিক। শামসুল আলমের মতে, মূলত দুটি কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের সিলিন্ডার সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। ত্রুটিপূর্ণ রাস্তার কারণেও বড় ধরনের ঝাঁকুনিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর