Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৭

ধানমন্ডিতে শিল্পপতির বাসায় শাশুড়ি ও গৃহকর্মী খুন

পিএসসহ আটক দুই

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমন্ডিতে শিল্পপতির বাসায় শাশুড়ি ও গৃহকর্মী খুন

রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাট থেকে দুই নারীর জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ২১ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

ফ্ল্যাটটির মালিক শিল্পপতি কাজী মনির উদ্দিন তারিম। নিহতদের একজন হলেন শিল্পপতি তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬০) এবং গৃহকর্মী দিতি (১৮)। ছয়তলা ভবনের চার ও পাঁচতলাটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট। পাঁচতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তারিম এবং চারতলায় তার শাশুড়ি থাকতেন। তাকে দেখাশোনা করতেন গৃহকর্মী দিতি। এ ঘটনায় শিল্পপতি তারিমের পিএসসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ব্যবসায়ী কাজী মনির উদ্দিন তারিম বলেন, তার শ্বশুর নেই। শাশুড়ি তাদের সঙ্গেই থাকেন। ডুপ্লেক্স বাড়ির চারতলায় তার শাশুড়ি এবং নিজে থাকেন উপরের ফ্ল্যাটে। ঘটনার দিন তার শাশুড়ি আসরের নামাজ আদায় করেছেন তাদের ফ্ল্যাটে। এরপর নিজের ঘরে চারতলায় চলে যান। সন্ধ্যা ৬টায় তিনি জানতে পারেন তার শাশুড়ি মারা গেছেন। তিনি বলেন, বিকাল ৪টায় তার সহকারী বাচ্চু নতুন একজন কাজের মহিলা নিয়ে আসে বাসায়। দিতি আর ওই নতুন কাজের মহিলাই তার শাশুড়ির দেখাশোনা করার কথা। ওই কাজের মহিলাই শাশুড়ি আর কাজের মেয়েকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। আলমারি থেকে এ সময় মালামালও লুট হয়েছে বলে জানান তারিম। তিনি এও বলেন, নিচে পুলিশের গাড়ি ছিল। পুলিশের সামনে দিয়েই রক্তমাখা ছোরা হাতে নতুন কাজের মহিলা পালিয়ে যান। অনেকেই পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন বলে দাবি করেন তারিম।

আফরোজা বেগমের ওপরের ফ্লোরে থাকেন তার মেয়ে দিলরুবা। বিকালে মা ফোন না ধরায় তিনি তার গৃহকর্মী রিয়াজকে নিচে গিয়ে দেখে আসতে বলেন। রিয়াজ জানান, আফরোজা বেগমকে ফোনে না পেয়ে দিলরুবা তাকে পাঁচতলা থেকে চারতলায় গিয়ে দেখে আসতে বলেন। গিয়ে দেখি, আফরোজা বেগম ফ্লোরে রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে আছেন। আমি দৌড়ে ওপরে গিয়ে বিষয়টি জানাই। তখন বাসার অপর গৃহকর্মী আপেল ও দিলরুবা ম্যাডাম চারতলায় আসেন। পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছি। বাসাটিতে যে নতুন গৃহকর্মী এসেছিল, তাকে আমরা সন্দেহ করছি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো তার পরিচয় জানা যায়নি। যে ব্যক্তি তাকে এই বাসায় নিয়ে এসেছিল, তার মাধ্যমে ওই নতুন গৃহকর্মীর তথ্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ছবি পেয়েছি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাসা থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের হত্যা করা হতে পারে। তাদের ফ্ল্যাটের আলমারি খোলা ও এলোমেলো ছিল।

 

বাড়িটির নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামান বলেন, ‘এই বাড়ির চারতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন আফরোজা ও গৃহকর্মী দিতি। ওপরে পাঁচতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা ও জামাই মনির উদ্দিন তারিম। শুক্রবার বিকালে তারিমের পিএস বাচ্চু এক নারীকে নিয়ে বাসায় আসেন। ওই নারী বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার কথা বলে বাচ্চুর সঙ্গে ওপরে যান। এরপর ৬টার দিকে বাচ্চু একবার লুঙ্গি পরে নিচে নামেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারী চলে যান। তারপর বাচ্চুও প্যান্ট-শার্ট পরে চলে যান। ওপর থেকে আমাকে একটা ছেলে ফোন দিয়ে জানায় খালাম্মা মারা গেছেন। এরপর লোকজন আসে।’

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বাড়িটির ইলেকট্রিশিয়ান বেলায়েত ও আফরোজার জামাইয়ের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) বাচ্চুকে আটক করেছে পুলিশ।


আপনার মন্তব্য