শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৮

জামালপুরে যে বাজারটি শুধুই নারীদের

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে যে বাজারটি শুধুই নারীদের

জামালপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বাজার পরিচালনা করছে নারীরা। ৫ থেকে ৭ বছর আগেও পশ্চিম আমখাওয়া গ্রামের এই নারীরা পুরুষ দেখলেই টেনে চলত ঘোমটা, মুখে আনত না স্বামীর নাম। অথচ আজ ব্যবসা থেকে শুরু করে বাজার পরিচালনা কমিটির সবকিছুর নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। বাজারটির দৃশ্যপট দেখে মনে হতে পারে পুরুষ শাসিত সমাজে এ যেন একখ  নারী রাজ্য।

দেওয়ানগঞ্জের সীমান্তবর্তী হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম আমখাওয়া গ্রামের শেফালী বেগম। ৫ থেকে ৭ বছর আগেও স্বামীর সঙ্গে মাঠে কৃষিকাজ করতেন তিনি। সে সময় সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। পুরুষ মানুষ দেখলেই লম্বা ঘোমটা টেনে চলতেন, প্রয়োজনে স্বামীর নাম জিজ্ঞাসা করলেও মুখে নিতেন না তার নাম। সেই শেফালী বেগমই আজ আমখাওয়া বাজারে বসে ব্যবসা করছেন। ব্যবসার টাকায় সংসারে শুধু সচ্ছলতাই ফিরিয়ে আনেননি, কিনেছেন জমি, করেছেন বাড়ি। বাজারের একটি দোকান থেকে হয়েছে তিনটি দোকান। এখন আর কারও করুণায় চলতে হয় না তাকে। একই বাজারের আনোয়ারা বেগম। অল্প বয়সেই কাঠমিস্ত্রির সঙ্গে বিয়ে দেয় পরিবার। অভাবের সংসারে তার দিন আনতে পানতা ফুরোয় অবস্থা। তাই সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে নারী হিসেবে তিনিই প্রথম এই বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। সে সময় লোকজনের নানা রকম কথা শুনেও হাল ছাড়েননি, পেয়েছেন সাফল্যও। শেফালী আর আনোয়ারাই নয়, এই বাজারের আম্বিয়া, রুমা, কামিনা, মাজেদা প্রতিটি নারীই যেন এক একটি সাফল্যের গল্প। আর এ সাফল্যের পেছনে কাজ করে যাচ্ছে গণচেতনা রি-কল নামের একটি এনজিও। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এনজিওটি পশ্চিম আমখাওয়া গ্রামের ১৮ জন নারীকে ব্যবসার ওপর প্রশিক্ষণ করিয়ে এককালীন অনুদানের মাধ্যমে বাজারে দোকান করে দিয়েছিল। আর তাদের দেখে অন্য নারীরা নিজ উদ্যোগেই এই বাজারে দোকান দিয়েছে। বর্তমানে আমখাওয়া বাজারের ৫০টি দোকানের ৩২টির ব্যবসায়ীই নারী। হোটেল, কসমেটিক্স, মনোহারী, লেপ-তোষক, কম্পিউটার-ফটোকপিসহ সব ধরনের ব্যবসার সঙ্গেই জড়িত এই নারীরা। আমখাওয়া বাজারের রুমা আক্তার বলেন, ‘আমি এই বাজারে কম্পিউটার-ফটোস্ট্যাটের দোকান দিছি। আমার স্বামীও পাশের আরেকটি বাজারে এগুলোর দোকান দিছে।’ কসমেটিক্স ব্যবসায়ী রিনা বলেন, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক স্বামীর একার রোজগারে কোনো রকমে সংসার চলছিল। বাজারের নারীদের ব্যবসা করতে দেখে পাঁচ বছর আগে এনজিওর অনুদান এবং স্বামীর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে আমিও ব্যবসা শুরু করি। এই ব্যবসা করে এখন জমি কিনে পাকা বাড়ি করেছি, স্বামীকে নতুন মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছি। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ব্যাংকেও টাকা জমাচ্ছি। আমখাওয়া বাজারের তিনটি হোটেলের মালিকও তিনজন নারী। নাছিমা, ছমিরুন আর জ্যোৎস্না হোটেল ব্যবসা করে তাদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতাই শুধু ফিরিয়ে আনেননি, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করেছেন।

আমখাওয়া বাজারের নারীরা শুধু ব্যবসাই করছেন না, বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বও দিচ্ছেন এই বাজারের নারীরা। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামের এই বাজারটির সবকিছু নারী পরিচালিত হওয়ায় ইতিমধ্যে নারী বাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আমখাওয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কনিকা পারভীন জানান, বাজারের ব্যবসা থেকে শুরু করে কমিটি পরিচালনা সবকিছুই আমরা নারীরা করছি। তাই আমাদের বাজারটি এখন নারী বাজার হিসেবেই সবাই চিনে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর