শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৬

ড্রোন দিয়ে সীমান্তে ভারতের নজরদারি

গৌতম লাহিড়ী, নয়াদিল্লি

ড্রোন দিয়ে সীমান্তে ভারতের নজরদারি
প্রতীকী ছবি

ভারতের আধাসামরিক বাহিনী ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)’ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্তে নজরদারির জন্য ইসরায়েলে তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এ সরঞ্জামের মধ্যে আছে : টিথার ড্রোন, থারমাল ইমেজিং ক্যামেরা, ইও/আইআর সেন্সর, পানি ও মাটির নিচে ব্যবহার্য সেন্সর ও পিটিজেড ক্যামেরা। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সীমান্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, যার বিস্তৃতি ভারতীয় পাঁচটি রাজ্যে। রাজ্যগুলো হচ্ছে- আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ। প্রতি ইসরায়েলি টিথার ড্রোনের দাম ৫২ হাজার ডলার। এ ড্রোন ১৫০ মিটার উচ্চতায় থেকে ২ কিলোমিটার দূরের ছবি তুলতে সক্ষম। গরু বা অন্য যে কোনো চোরাকারবারির সীমান্তে এদিক-ওদিক যাওয়ার ছবি তোলায় ব্যবহৃত হবে এসব ড্রোন। আসামের সঙ্গে বাংলাদেশের থাকা ২৬৩ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১১৯.১ কিলোমিটার নদী অঞ্চল। এর মধ্যে পশ্চিম আসামের ধুবড়ি সেক্টরের ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত যেখানে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ স্থানে মানুষের জন্য নজরদারি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে বর্ষাকালে এ অংশে নজরদারি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাভাবিক ও টিথার ড্রোনের মধ্যে পার্থক্য হলো : আগের ড্রোনগুলো ৩০ মিনিট পরই নামিয়ে আনতে হতো চার্জ করার জন্য। এ ছাড়া একটু ঝড়ো বাতাসেই উড়ে যেত সেগুলো। আর ধুবড়ি অঞ্চলে বাতাসও অনেক। বিএসএফের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সীমান্তে মূলত যেসব এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল সেসব এলাকা দিয়ে চোরাচালান বেশি হয়। সাধারণত রাতে এসব হয়। ড্রোন মোতায়েনের ফলে আমাদের নজরদারি-সীমাবদ্ধতা দূর হবে।’ বিএসএফ জানায়, নজরদারি জোরালো করার চেয়েও এর পেছনে বড় পরিকল্পনা হলো, পাচারকারীদের কাছে এই বার্তা পাঠানো যে, তাদের ওপরে সব সময় বিএসএফ নজর রাখছে। এদিকে ড্রোন ছাড়াও আসামের ধুবড়ি সেক্টরে মাটির নিচে থারমাল ইমেজার, স্বয়ংক্রিয় তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রও স্থাপন করেছে বিএসএফ। এসবের মাধ্যমে মানুষ, প্রাণী এমনকি অন্যান্য যে কোনো বস্তুর চলাফেরার ওপর নজরদারি করা যায়।

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএফের কাছে ড্রোন সরবরাহ শুরু করেছে। বিএসএফ এসব ড্রোন দিয়ে সীমান্তে নজরদারি করবে। প্রথম স্তরে মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার পর্যন্ত দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় ড্রোনগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর