শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৬

অষ্টম কলাম

পাখির বাসার ভাড়া তিন লাখ টাকা, দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

পাখির বাসার ভাড়া তিন লাখ টাকা, দেবে সরকার

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের সেই আমবাগানেই স্থায়ী নীড় হচ্ছে বাড়ি ছাড়ার নোটিস পাওয়া শামুকখোল পাখিগুলোর। তাদের হয়ে বাসা ভাড়া দেবে সরকার। এতে যতদিন ইচ্ছা নিরাপদ নীড়ে থাকতে পারবে পাখিগুলো। আর কেউ তাদের তাড়িয়ে দেবে না। এরই মধ্যে তাদের বাসা ভাড়ার টাকা নির্ধারণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। সেই আবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন পেলে পাখিগুলোর বাসা ভাড়া হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত আমবাগান ইজারাদার বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা করে পাবেন। শর্ত একটাই বাসা ভাঙা যাবে না। এর মধ্য দিয়ে কয়েকশ বাচ্চা নিয়ে আপন নিবাস হারানোর শঙ্কায় থাকা শামুকখোল পাখিগুলো নির্ভার হতে চলেছে। তাদের কলকাকলিতে সব সময়ই মুখর হয়ে থাকবে বাঘার প্রত্যন্ত খোর্দ্দ বাউসা গ্রাম। শিগগিরই মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বাসা ভাড়ার টাকা ছাড় পাবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পাখিগুলো বাসা ভাড়ার টাকা পাচ্ছে জানিয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই পাখির বাসা রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে হাই কোর্ট থেকেও নির্দেশনা আসে। তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিই সব নির্দেশনা দেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই আমবাগানে গিয়ে জরিপ চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজার নেতৃত্বে তারা বাগানে গিয়ে দেখেন, মোট ৩৮টি আমগাছে বাসা বেঁধেছে শামুকখোল পাখিগুলো। জরিপ শেষে ওই আমগাছগুলো থেকে বছরের সম্ভাব্য আম উৎপাদন ও দাম নিরূপণ করেন। হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে বাগান মালিক বা ইজারাদারের। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পর তারা রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেন। নিরীক্ষণের পর প্রস্তাবনাসহ সেই প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠান জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, ৫ নভেম্বর পাখিগুলোর জন্য বাসা ভাড়া চেয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই টাকা আমবাগানের মালিক বা ইজারাদারকে দেওয়া হবে। পাখির জন্য প্রতি বছর এই ব্যয় বহন করবে সরকার। এর আগে আমবাগানের কয়েক হাজার শামুকখোল পাখিকে ১৫ দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দেওয়ার নোটিস দেন বাগান ইজারাদার আতাউর রহমান। তবে বাদ সাধেন স্থানীয় কিছু পাখিপ্রেমী। এ সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পাখির আবাসস্থল রক্ষার উদ্যোগ নেয় রাজশাহী জেলা প্রশাসন।    


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর