শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৮

দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন না বহাল

নৌকা ও ধানের শীষসহ সব দলেই প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি

মাহমুদ আজহার ও রফিকুল ইসলাম রনি

দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন না বহাল

আগামী জানুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও ভোটের লড়াইয়ে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। রাজধানীর দুই মেয়র নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষসহ সব রাজনৈতিক দলই প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পুরনো প্রার্থীরাই থাকবেন, নাকি প্রার্থী পরিবর্তন হবে তা নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্র্মীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন তাতে দুই সিটিতেই প্রার্থী বদল হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দক্ষিণ সিটিতে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ছাড়াও অর্ধডজন নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চান। একই অবস্থা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও। বর্তমান মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ছাড়াও অর্ধডজন নেতা নৌকা প্রতীক পেতে চান। এখানে দুজন এমপি ছাড়াও একজন কেন্দ্রীয় নেতা আলোচনায় আছেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিতে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে উত্তর সিটিতে আগের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবারও মেয়র পদে লড়বেন। দক্ষিণ সিটিতে সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনই দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। দলীয় উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পেয়ে এরই মধ্যে তিনি মাঠে কাজ শুরু করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। তবে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত নয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হয় তা দেখেই দক্ষিণের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আসন্ন জানুয়ারিতে একই দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোট করা হবে। এক্ষেত্রে জানুয়ারির মাঝামাঝি বা শেষের দিকে দুই সিটিতে ভোট হতে পারে। এদিকে শুধু মেয়র পদেই নয়, রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডেও চলছে ভোট প্রস্তুতি। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কারও কারও পক্ষে সমর্থকরা পোস্টারও টাঙাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রার্থীদের পক্ষে নানামুখী প্রচারণা। আওয়ামী লীগের সূত্রমতে, দুই সিটিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় দলটি। তাই দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ডে  সম্পৃক্ত ও অধিকতর জনপ্রিয় এমন যোগ্য নেতা খুঁজছেন তারা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগে এখন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা চলছে। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী মোটামুটি চূড়ান্ত করে রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন চলছে কাউন্সিলর প্রার্থীর বাছাই। এবার কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী মাঠে রাখবে ক্ষমতাসীন দলটি। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। এবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মাঠে থাকবে। মেয়র পদে কে প্রার্থী হবেন-সে সিদ্ধান্ত দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেবেন। কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী রাখতে হবে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রতিকূল পরিবেশেও জানুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটি ভোটে লড়বে বিএনপি। দুই সিটির জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত পর্যায়ে। উত্তর সিটিতে বিএনপির আগের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে এরই মধ্যে সংকেত দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণেও ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে। সংকেত পেয়ে তারা এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠক শুরু করেছেন। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মহানগর দক্ষিণে ইশরাক হোসেন ছাড়াও বিকল্প প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, শেষ পর্যন্ত মরহুম সাদেক হোসেন খোকার উত্তরসূরি হিসেবে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনই মনোনয়ন পেতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ  হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নানা প্রতিকূল পরিবেশেও নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পক্ষে আমরা অবস্থান নিয়েছি। সেক্ষেত্রে সামনে সিটি ভোটেও অংশ নিতে পারি। কিন্তু সরকার যেভাবে ভোট ডাকাতি করে জনমত ছিনিয়ে নিচ্ছে তাতে ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।’ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়।


আপনার মন্তব্য