শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৯

চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে তিন সপ্তাহের সময় নিল বুয়েট

আদালত প্রতিবেদক

চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়সারুল ইসলাম অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা গেল কিনা সে বিষয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন- বুয়েটের ছাত্র মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও মুজতবা রাফিদ। এর আগে কারাগারে থাকা মামলার বাকি ২১ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ নভেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিদের ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের নাম আবরারের বাবার করা হত্যা মামলার এজাহারে আছে। তারা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনীক সরকার, ইফতি  মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা ও এ এস এম নাজমুস সাদাত। বাকি পাঁচজনের নাম তদন্তে এসেছে। তারা হলেন ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু।

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে তিন সপ্তাহের সময় নিলো বুয়েট প্রশাসন :  চাঞ্চল্যকর আবরার হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ে (বুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে তিন সপ্তাহের সময় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এই সময় নেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর আবরার হত্যার পর কয়েক দফায় শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর বুয়েট উপাচার্য, ডিএসউব্লিউ ও ডিনদের সঙ্গে বৈঠকে তিন দফা দাবি জানায় তারা। দাবিগুলো হলো, হত্যামামলার চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার; আহসান উল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে র‌্যাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি এবং সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগের জন্য শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত প্রভৃতি। এসব দাবি পূরণ হওয়া সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা বলেন তারা। তবে বেশ কিছুদিন চলে যাওয়ার পরও এসব দাবির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ আনেন শিক্ষার্থীরা। এসব দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত রয়েছেন তারা। গতকাল বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে তিন সপ্তাহের সময় চান। এতে সম্মত হয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের স্বার্থে এই সময় দিয়েছি। প্রয়োজনে দেরিতেই পরীক্ষা দেবো। তবুও নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই।

বুয়েট আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন বিএনপির এক আইনজীবী দাবি নওফেলের :

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদ বা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক আইনজীবী তার সন্তানকে নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে বুয়েটে আন্দোলন চলমান থাকে। এ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে সরকারের কাছে। গতকাল ঢাকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তবে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেও আইনজীবীর নাম উল্লেখ করেননি উপমন্ত্রী।

উপমন্ত্রী বলেন, চার্জশিট দেওয়ার পরেও বুয়েটে অচলাবস্থা কেন? সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও কেউ কেউ বুয়েটে অরাজকতার জন্য উসকানি দিচ্ছে। অভিভাবকদের বলব আপনার সন্তানদের সঠিকভাবে পরিচালনা করুন। হীন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করবেন কেন? ছাত্রছাত্রীদের সঠিকভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয় পরিবারেরও। তারা যেন কারও আন্দোলনের হাতিয়ার না হয়। নওফেল বলেন, উসকানিমূলক আচরণ করে জনগণের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় অচল রাখার চেষ্টা করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বুয়েটে শিক্ষার্থী হত্যায় অভিযুক্তরা কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের বিচারকাজ চলছে, এ সময় বুয়েট  থেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ইস্যু তুলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন। স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, এ জন্য সময় প্রয়োজন। যেহেতু অপরাধীরা পুলিশের হাতে আটক, তখন তাদের স্থায়ী বহিষ্কার মুখ্য বিষয় নয়। এ ইস্যুতে আন্দোলন চাঙ্গা রাখা হবে, তা হতে পারে না।

মহিবুল হাসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষকরা দুটি আলাদা অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমরা প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু করেছি।


আপনার মন্তব্য