শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৯

অধ্যক্ষকে পানিতে নিক্ষেপ

ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৫

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে টেনেহিঁচড়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া পাঁচ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা  হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে তাদের রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চন্দ্রিমা থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়। আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতার পাঁচজন অধ্যক্ষের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এরা হলেন- নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকোড় বাজারের বজলুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন সৌরভ (২৪), পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের রইচ শেখের ছেলে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে শান্ত (২২), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের শামিমুল ইসলামের ছেলে সালমান টনি (২২), রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে রায়হানুল ইসলাম ওরফে হাসিব (২১) এবং জেলার চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে মুরাদ হোসেন (১৯)। তারা রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সৌরভ মামলার এক নম্বর আসামি। সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। এদের মধ্যে সৌরভ পলিটেকনিক ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনায় তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা এই সৌরভকেই ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে গত ২ নভেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে চাপ দেয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিন দুপুরে অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভিতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ নিয়ে ওই রাতে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন অধ্যক্ষ। এরপর পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। তবে মূল অভিযুক্তরা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে সৌরভসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এ নিয়ে মোট ১৮ জন গ্রেফতার হলেন। আরএমপি মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপন করেছিলেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য