শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪১

অষ্টম কলাম

কোটি টাকার গাড়ি পাচ্ছেন ইউএনওরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটি টাকার গাড়ি পাচ্ছেন ইউএনওরা

উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জন্য প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পাজেরো স্পোর্টস কিউ এক্স জিপ গাড়ি কিনছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবসহ মোট পাঁচটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।  বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জন্য ৫০টি জিপ গাড়ি কেনার একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। গাড়ির দাম কত-এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু না বললেও বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিটি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৯৪ লাখ টাকা। বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এলইডি সড়কবাতি সরবরাহ ও স্থাপনে একটি প্রস্তাবও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে ব্যয় হবে ৩৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বৈঠকে জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ বছরে ১৫ লাখ পার্সোনালাইজড ডুয়েল ইন্টারফেস পলি কার্বনেট মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ক্রয়ের প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মহেশখালী, মাতারবাড়ী এবং বাঁশখালী এলাকায় নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের জন্য একটি ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে চট্টগ্রামে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ স্থাপনে একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৪৮৬ কোটি টাকা। ছয় একর জায়গার মধ্যে নতুন এই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে। এদিকে একই স্থানে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির  বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ৮০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ৭টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হলো, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রোডিনট্রং ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এক লাখ ৮০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩৯০ কোটি ৭৬ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের (ইডিসিএল) তৃতীয় প্রকল্প সিভিল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড প্লামবিং ওয়ার্কের অন্তর্গত নন টেন্ডার আইটেমের ভেরিয়েশন কাজের প্রস্তাব অনুমোদন। প্রকল্পটি নির্মাণকাজ চলাকালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা মোতাবেক ডিজাইন, ড্রইং, অনুযায়ী কাজের উপযোগিতা, সৌন্দর্য ও গুণগত মান বৃদ্ধি করাসহ কিছু নন টেন্ডার আইটেমের কাজ যুক্ত হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ ৫ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৬ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল চুক্তিতে ছিল ৯৭ কোটি ২১ হাজার ৫১৫ টাকা। সর্বমোট প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ১২ লাখ ৭৯ হাজার ২০১ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেড (ইডিসিএল)। বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো, নেত্রকোনা- কেন্দুয়া-আঠারবাড়ী-ঈশ্বরগঞ্জ জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটির পূর্ত কাজের প্রস্তাব অনুমোদন। যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে তাহের ব্রাদারস লি. রানা বিল্ডারস প্রাইভেট লিমিটেড ও মাঝাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড। এতে মোট ব্যয় হবে ১১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। বৈঠকে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ন্যাশনাল স্ট্রাটেরজি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব স্টাটিস্টিকস (এনএসডিএস) ইমপ্লামেটেশন সাপোর্ট প্রজেক্টের ‘টিইউনিং পার্টনারশিপ ফর ন্যাশনাল স্ট্রাটেরজি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব স্টাটিস্টিকস (এনএসডিএস) ইমপ্লিমেনটেশন সাপোর্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক পরামর্শক নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন। এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। এলজিইডি কর্তৃক গৃহীত জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ‘ক্লাইমেট রিসাইলেন্ট লোকাল ইনফ্রাস্টাকচার সেন্টার’-এর জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৬৭ কোটি ১৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯২ টাকা। এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষে ঢাকা ওয়াসার আওতাধীন ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের একটি প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ।


আপনার মন্তব্য