বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমের কারণে খুন হয় ছাত্র আবির

মেহেরপুর প্রতিনিধি

ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমের কারণে খুন হয় ছাত্র আবির

ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন  মেহেরপুরের গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান। গতকাল বিকাল ৩টায় গাংনী থানায় হত্যাকান্ড সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, মুজাহিদ, হামিম ও আবির তিনজন পরস্পর আত্মীয় হওয়ার কারণে তারা এক সঙ্গে খেলাধুলা করত। মোবাইল ফোনে সাধারণ গেম খেলতে খেলতে এক পর্যায় ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমে আসক্ত  হয়ে পড়ে। কয়েক সপ্তাহ আগে মুজাহিদের কাছ থেকে আবির হোসেন ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমে অ্যাকাউন্টের আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে সেটি পরিবর্তন করে। সে অ্যাকাউন্টে মুজাহিদের ৫০ হাজার টাকা রয়েছে দাবি করে আবির হোসেনের কাছে ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমে অ্যাকাউন্টের আইডি ও পাসওয়ার্ড অথবা টাকা ফেরত চায় মুজাহিদ। আবির হোসেন আইডি ও পাসওয়ার্ড না দেওয়ায় বিরোধ শুরু হয়। তিনি বলেন, ঘটনার দিন ষোল টাকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুহুনবীর ছেলে হামিমকে সঙ্গে নিয়ে মিরাজ উদ্দীনের ছেলে মুজাহিদ আবির হোসেনকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। পরে হামিমের বেল্ট খুলে আবিরের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর পাট দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখার পর আবিরের কাছে থাকা তার মায়ের মোবাইল ফোন থেকে মুজাহিদ আবিরের বাবার কাছে হিন্দি ভাষায় ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে আবিরের বাবা বিষয়টি আবিরের মা রোজিনাসহ স্বজনদের জানায়। স্বজনরা আবিরকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করার পাশাপাশি ৯৯৯-এ কল দেওয়া হয়। ফোন কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মুজাহিদ ও হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় হত্যার ঘটনা স্বীকার করে লাশের সন্ধান দিলে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় শিশু আবির হোসেনের মা রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে মুজাহিদ ও হামিমের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২৩ তাং ২৭.০৬.২০২১। মামলার আসামিরা মেহেরপুর আদালতে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে আসামিদের বয়স ১৪ ও ১৫ বছর হওয়ার কারণে যশোর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।