শিরোনাম
রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা
প্রতারকের প্রলোভন

আপনার মনোনয়ন নিশ্চিত ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আপনার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তাই আপনাকে ৫০ লাখ টাকা নগদ দিতে হবে।’ ফোনে কথা বলার পর প্রতারক চক্রের সদস্য এক নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়ার আগে জানায়, ‘ইনি প্রধানমন্ত্রীর কন্যা’। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে কল দেওয়া ওই প্রতারক নিজেকে পরিচয় দেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে। বলেন, ‘তিনি কাজ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি কয়েকজনকে বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও  ইতোমধ্যে কয়েকজনের মনোনয়নের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।’ অনেকটা একই কায়দায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগ থানার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি এলাকায় অবস্থানকালে মনোনয়নপ্রত্যাশী ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়কে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান পরিচয়ে। মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ২৬ নভেম্বর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হলে সেখানে তার নাম না থাকায় ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি মামলা করেন। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শুক্রবার রাজধানী ও ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেফতাররা হলেন নুরুল হাকিম (৩১), হাসানুল ইসলাম জিসান (২২) ও মো. হারুন অর রশিদ (২৯)। ভুয়া পরিচয়ধারী পুতুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা জব্দ করেছে ডিবি। হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দেশব্যাপী সক্রিয় হয়। এর ধারাবাহিকতায় চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে। গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গ্রেফতার নুরুল হাকিম নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও অপর আসামি হাসানুল ইসলাম জিসান নিজেকে একান্ত সচিব-২ জয় মোর্শেদের পরিচয় দিয়ে তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আগ্রহীদের মনোনয়ন পাইয়ে দেবে বলে ফোন করেন। এজন্য তাদের ৫০ লাখ টাকা দিতেও বলা হয়। তবেই তারা মনোনয়ন পাবেন বলে জানায়।’ ডিবি প্রধান আরও বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের ঢাকা জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক শেখ কামাল হোসেন এবং সাভার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলী জামান পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন সরকারি ভাতা কার্ড  দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করত। গ্রেফতার নুরুল হাকিমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যারা আমাদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন, আমরা গুরুত্বের সঙ্গে প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। এমন প্রতারণার শিকার আরও কেউ থাকলে তাদের জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর