টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে গোলাগুলি ঘটেছে। গুলি এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পে এসে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে রাতভর আতঙ্ক বিরাজ করে ওই এলাকায়। রবিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে থেমে থেমে ২ ঘণ্টাব্যাপী টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার বলেন, ‘নয়াপাড়া মৌচনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় রবিবার রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। তাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এপিবিএনের মৌচনী ক্যাম্পে এসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’
স্থানীয় ক্যাম্প সূত্র জানায়, টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, মৌচনী, জাদিমুড়া, লেদা ক্যাম্পকেন্দ্রিক কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ ডাকাতি, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাশের পাহাড়েও মাঝেমধ্যে গোলাগুলি করে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নুর কামাল, সাদ্দাম ও সালেহ গ্রুপ। নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্পের পাশের পাহাড়ে তারা আস্তানা গড়ে তুলেছে। ক্যাম্পেও তাদের গ্রুপের সদস্য রয়েছে। এ দুই গ্রুপ মাদক, অপহরণ, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। সূত্র আরও জানান, রবিবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গা ও গ্রামবাসী ভয় ও আতঙ্কে রাতভর জেগে থাকে। নয়াপাড়া ক্যাম্পের নুর আহমদ জানান, ‘রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। থেমে থেমে গুলির শব্দ আসতে থাকে।’
নয়াপাড়ার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে আমার ঘর হওয়াতে খুব চিন্তায় আছি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। তারা সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়।’