১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পদের তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হলো।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বেনজীরের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলে ১৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানকালে তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে গত বছরের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে দেখা যায় বেনজীর আহমেদের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর ও ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তিনি মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মধ্যে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া আসামি বেনজীর আহমেদ তার অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে নাবালিকা কন্যা মিজ যাহরা যারীন বিনতে বেনজীরের নামে অর্জিত কোনো কিছু সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন করেননি।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করে তার উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করেছেন। তার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রমাণ মিলেছে।