দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমন ধান ঘরে তোলার উৎসব শুরু হয়েছে। সোনালি ধানের গন্ধে মাতোয়ারা কৃষকের ঘর, আর সেই সঙ্গে চালের বাজারেও একটু একটু আভাস দিচ্ছে দামের উত্তাপ কমার। গত এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিপ্রতি খুচরায় কমেছে ১ থেকে ২ টাকা। এর মধ্যে সরকার বাজারে সরবরাহ জোরদার করতে নতুন সংগ্রহ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গতকাল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে ঠিক করা হয়েছে, এবার আমন মৌসুমে ৭ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই সংগ্রহ অভিযান। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, এর মধ্যে ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ৫০ হাজার টন আতপ চাল ও ৫০ হাজার টন ধান ক্রয় করবে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, নতুন ফসলের আগমন ও আমদানি বাড়ায় চালের বাজারে স্বস্তির আভাসের সম্ভাবনা ফিরছে। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রিত আমদানির কারণে বাজার এখন নিয়ন্ত্রণে। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে। দেশে চালের চাহিদা প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে চাল উৎপাদন হয় ৪ কোটি ৪৩ লাখ টন।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ধানের দাম ১১ শতাংশ, সরু চালের দাম ১১ শতাংশ, মাঝারি চালের দাম ১৩ শতাংশ ও মোটা চালের দাম সাড়ে ৭ শতাংশ বেড়েছে। যদিও গত অর্থবছরে চালের উৎপাদন ২৩ লাখ টন বেশি ছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক বছরে চালের দাম কমেছে ৩৬ থেকে ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশে গত এক বছরে চালের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জুন মাস থেকে চালের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়।
বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৭২ থেকে ৭৬ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা (স্বর্ণা) চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত দুই সপ্তাহ আগেও ১ থেকে ৩ টাকা বেশি ছিল।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশে ৪ লাখ ২৫ হাজার টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এসেছে ৫০ হাজার টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন। ভারত, মিয়ানমার ও দুবাই থেকে আমদানি করা এই চাল বাজারে সরবরাহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি আরও ১ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি।
বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাউসার আলম খান বাবলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দাম ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে। নতুন চাল বাজারে আসলেই দাম আরও কমে যাবে। পাশাপাশি আমদানিও চলছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে।