ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ১০ দিন পার হলেও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যায়নি কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ। ভরা পর্যটন মৌসুমেও সাগরপারের এই দ্বীপজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। এতে হতাশ দ্বীপের মানুষ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতে আর কোনো বাধা নেই। তবে রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় কেউ দ্বীপমুখী হচ্ছেন না। ফলে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে কোনো জাহাজই ছাড়েনি। এতে পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসীর জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্রপথ বেশ কষ্টকর। তাই পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় জাহাজ কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রি করতে পারেনি। ডিসেম্বর থেকে দুই মাস রাতযাপনের অনুমতি মিললে তখন থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। বর্তমানে ফাঁকা হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনশূন্য সৈকত ও নীরব জেটি-সব মিলিয়ে বিষণ্ন এক সেন্ট মার্টিন। স্থানীয় ইজিবাইক চালক মো. রহিম বলেন, ‘সারা দিন গাড়ি চালিয়ে ব্যাটারির খরচও ওঠে না। পর্যটক এলে তবেই আয় হয়।’ শুঁটকি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন জানান, ‘পর্যটক না থাকলে বিক্রিও বন্ধ থাকে।’
হোটেল মালিকরা বলছেন, নভেম্বরে এক দিনও জাহাজ না ছাড়ায় তাদের ব্যবসা অচল হয়ে পড়েছে। হোটেল–রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম জিহাদি জানান, দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট এখন খালি পড়ে আছে। নভেম্বরে পর্যটক না এলে মৌসুমের আয় পুরোপুরি ধসে পড়বে। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের ৯০ শতাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটক না এলে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’ টেকনাফ ইউএনও শেখ এহেসান উদ্দিন জানান, ‘এখনো কেউ সেন্ট মার্টিনে যাননি। ডিসেম্বর থেকে নিয়ম মেনে পর্যটকরা যেতে পারবেন বলে আশা করছি।’