২ হাজার টাকা চুরি ধরা পড়ায় মা লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসাকে হত্যা করে গৃহকর্মী। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত সোমবারের এই ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা ছয় দিন ও তার স্বামী রাব্বি শিকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, গৃহকর্মী আয়েশার আগে থেকেই চুরির স্বভাব রয়েছে। তিনি নিজের বোনের বাড়ি থেকেও ২ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করেছিলেন। এর আগে হুমায়ুন রোডে চুরির ঘটনায় থানা পুলিশ তাকে আটকও করেছিল। এরই ধারবাহিকতায় চুরির উদ্দেশেই মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ভিকটিমদের বাসায় কাজ নিয়েছিলেন আয়েশা। কাজে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিন ওই বাসা থেকে ২ হাজার টাকা চুরি করেন। তৃতীয় দিন সেই টাকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তার তর্ক হয়। চতুর্থ দিন গত সোমবার সকালে সুইচ গিয়ার ও চাকু লুকিয়ে বাসায় যায় আয়েশা। বিষয়টি নিয়ে গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তর্ক হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আফরোজা তার স্বামীকে কল দেওয়ার চেষ্টা করলে পেছন থেকে ছুরি মারে আয়েশা। এ সময়ে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে গৃহকর্মী। মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে ওঠা নাফিসা এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত নাফিসা ইন্টারকমে গার্ডকে ফোন দিতে চাইলে আয়েশা ইন্টারকমের মূল তার ছিঁড়ে ফেলে আবারও ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পর নিজের রক্তমাখা কাপড় বদল করে আয়েশা। এরপর নাফিসার স্কুল ড্রেসে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এই সময়ে ব্যাগে করে ল্যাপটপ ও ফোন নিয়ে যায়। প?রে ঢাকা ছাড়ার সময়ে সিংগাইর ব্রিজ থেকে ফোন এবং পোশাক ভর্তি ব্যাগ নদীতে ফেলে দেন। আত্মগোপন করে ঝালকাঠির নল?ছি?টি এলাকায় দাদা শ্বশুরের বাড়িতে। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আয়েশার কোনো ছবি ও এনআইডি ও পরিচয় সংরক্ষিত না থাকায় তাকে খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পুরোনো তথ্য ঘেঁটে হুমায়ুন রোডের একটি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থেকে একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়, সেখান থেকেই শুরু হয় আসামির সন্ধান। এরই ধারবাহিতায় গত বুধবার স্বামীসহ আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে গৃহকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণে রাখার পরামর্শ দেন ডিএমপি কর্মকর্তা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুরি নেশায় পরিণত হয়েছিল আয়েশার। তার স্বামী চুরির বিষয়ে শুরু থেকে সবই জানতেন।
নাইট গার্ডের চাকরি করায় ডিউটির সময় নিজের কাছে ওই সুইচ গিয়ার ছুরি রাখতেন আয়েশার স্বামী। মা-মেয়েকে হত্যার পর স্বামীই পালাতে সহায়তা করেন।