রাজধানীর কড়াইল লেক দখলের মহোৎসব চলছে। বাঁশ-কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘর। গত ১৬ মাসে পাঁচ শতাধিক ঘর নির্মাণ হয়েছে। ডোবার ওপরেই গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাড়া বা মহল্লা। লেক এখন ডোবায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে বনানী লেকের পাড় দখল শুরু হয়। চলতি ২০২৫ সালে এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
লেকটি গুলশান-বনানীর মাঝে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন। রাজধানীতে যেটুকু জলাশয় রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এই লেক। সরেজমিন দেখা গেছে, কড়াইল বস্তি বেলতলা মোড় হয়ে বিটিসিএল স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন। এই স্টেশনে যেতে সড়কের দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে ঘর। বিস্তৃত হয়েছে কড়াইল বস্তির। স্যাটেলাইট স্টেশনে যেতে হাতের বাঁ পাশ দিয়ে ভিতরে ঢুকতে দেখা যাবে নতুন ঘর। ইট সুরকি দিয়ে ভরাট করে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। লেকের ওপরে বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে ঘর তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া টিঅ্যান্ডটি মাঠের পাশে দিন-রাতে সমানতালে চলছে ভরাট এবং ঘর ও স্থাপনা নির্মাণ। স্থানীয়রা জানান, লেক দখল করে তৈরি হয়েছে বাইদাপাড়া, গোডাউন পাড়া, কুমিল্লা পট্টি, বেলতলা, পশ্চিমপাড়া, পূর্বপাড়া, উত্তরপাড়া, মোসা, এরশাদনগরের মতো বস্তি। দুই দশক আগেও এখানে নৌকা দিয়ে বনানী-মহাখালী যাতায়াত করা যেত। এখন পুরো অংশ ডোবা এবং অবৈধ বসতিতে পরিণত হয়েছে। দখলের মূল হোতা নব্য চাঁদাবাজ মণ্ডল। বস্তি থেকে চাঁদা আদায়সহ ঘর নির্মাণ করছে এই মণ্ডল। শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল আজিজের ছেলে আনিস গং। এ ছাড়া টেংরা জাকিরের আধিপত্য রয়েছে। এই তিন মূল হোতা গত বছরের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় লেক দখলের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়রা জানান, লেকটি গুলশান, বনানী, মহাখালীর জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। বর্ষায় জলজট নিয়ন্ত্রণে খুবই প্রয়োজন। অগ্নিকাণ্ডেও লেকটি খুবই দরকার বলে মনে করেন তারা। তাদের অভিযোগ, রাজউক নীরব ভূমিকায় রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক টিনশেড ঘর তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক ঘর পানির ওপর ভাসমান। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির অবৈধ সংযোগ দিয়ে অনেক ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ থাকলে রুমপ্রতি ভাড়া ৫ হাজার টাকা। না থাকলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দুই রুমের ভাড়া ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু। রাজধানীর বনানীর কড়াইল লেকের দখল বন্ধ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ২৫ নভেম্বর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। পরিবেশ সচিব, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (ঢাকা অঞ্চল) বরাবর এই নোটিস পাঠানো হয়।
সরোয়ার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কড়াইল লেক বা জলাধার দিনদুপুরে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। কর্তৃপক্ষ এগুলো দেখেও না দেখার ভান করছে। রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, লেক দখলের বিষয়টি আমার নজরে ছিল না। তিনি উচ্ছেদের জন্য উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১ মনির হোসেনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।