রাজধানীর বাজারে পিঁয়াজের দাম এখনো সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসেনি। প্রায় দুই মাস ধরে ঊর্ধ্বগতিতে থাকা পিঁয়াজের দামে বেশ অস্বস্তিতে আছেন সাধারণ মানুষ। পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই সরকার থেকে আমদানির অনুমতি দিলেও তার কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি। সয়াবিন তেলও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ বাড়ছে। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে অনেক সবজির। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারদের কাছ থেকে বেশি দামে পিঁয়াজ কিনতে হচ্ছে এখনো। তা ছাড়া আগে মজুত করা পিঁয়াজও সব বিক্রি হয়নি। আগামী সপ্তাহেই পিঁয়াজের দাম কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন তারা।
গতকাল মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে নতুন মুড়িকাটা পিঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। আমদানি করা পিঁয়াজও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব পিঁয়াজের দামও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। বাজারে পুরোনো পিঁয়াজ এখনো ১২০-১৩০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নতুন মুড়িকাটা পিঁয়াজ ১০০-১১০ ও ভারত থেকে আমদানি করা পিঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। ৫ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯৫৫ টাকা করা হয়েছে। সব দোকানেই নতুন এই দরেই বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে শীতকালীন সবজি শিম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। ফুলকপি পিস ৪০-৫০, বাঁধাকপি ২০, টম্যাটো কেজিপ্রতি ৬০-৮০, গোল বেগুন ৫০-৬০ ও লম্বা বেগুন ৪০-৫০, পটোল ৪০, করলা ৬০, ঝিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে নতুন আলু কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পুরোনো আলু ২০-২৫ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বাজারে মুলা কেজিপ্রতি ২০-৩০ ও লাউ ৬০-৭০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। পেঁপে ৩০-৪০, মিষ্টি কুমড়া ৩০, দেশি শসা ৫০-৬০ ও হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৬০-১৭০ টাকায় আর সোনালি মুরগি ২৬০-২৮০ টাকায়। ফার্মের প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০-৭৮০, এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মানভেদে রুই ২৬০-৩২০ টাকায় কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কাতল ৩২০-৩৫০, পাঙাশ ১৮০-২০০, তেলাপিয়া ১৬০-২০০, চিংড়ি ৬৫০-৭০০, মাঝারি কই ২৫০-৩০০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩০০, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।