হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধ ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইস ও অন্যান্য সামগ্রীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। তারা হলেন- শাহারুন আলী ও মো. ইকবাল হোসেন জীবন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৬ পিস ডিজিটাল ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইস, ৫০ পিস ইয়ারপিস, ৩টি ল্যাপটপ ও ৬টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসপি (অপস) মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক জানান, সাধারণ যাত্রীবেশে চীন থেকে শাহারুন আলী এই ডিভাইসগুলো আনেন এবং পরবর্তী সময়ে এয়ারপোর্টে অপেক্ষারত চক্রের আরেক সদস্য ইকবাল হোসেন জীবনসহ একসঙ্গে এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই ডিভাইসগুলো আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। গতকাল তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ জানায়, এই স্পাই ডিভাইসগুলো বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হয়। এতে থাকে ক্রেডিট কার্ডসদৃশ ডিভাইস, অদৃশ্য ইয়ারপিস এবং স্বচ্ছ এক্সট্রাকশন থ্রেড। মূল ডিভাইসটি দেখতে ক্রেডিট কার্ডসদৃশ হওয়ায় এগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায় না। এই স্পাই ডিভাইসগুলো সিমের মাধ্যমে সংযুক্ত করে অসাধু পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার হলে নিয়ে যায় এবং অপর প্রান্তে যুক্ত থাকে পরীক্ষা জালিয়াত চক্রের সদস্যরা। ক্রেডিট কার্ডসদৃশ ডিভাইসটি সিমের সঙ্গে সংযুক্ত করে শরীরের কাছে রাখলে বা ঝুলিয়ে রাখলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনকামিং কল রিসিভ করে। অদৃশ্য ইয়ারপিস খুব ছোট হয় যা কানের গহ্বরে প্রবেশ করানো হয় এবং বাহির থেকে বোঝা যায় না। এর মাধ্যমে পরীক্ষার হলের বাইরে থাকা অসাধু চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। পরীক্ষা শেষে অসাধু পরীক্ষার্থীরা স্বচ্ছ এক্সট্রাকশন থ্রেডের মাধ্যমে ইয়ারপিসটি নিরাপদে বের করে আনে।