ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ফের তলব করা হয়েছে। গতকাল সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানানো হয়। সেই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা ভারতে ঢুকে পড়লে তাদের গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। তলবের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পরে বিকালে নয়াদিল্লি থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হাইকমিশনারকে তলব করে আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে পলাতক শেখ হাসিনাকে অব্যাহতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্যের অনুমতি দেওয়ায় ভারতের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ সময় ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপের প্রতিও হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করানো হয়। এর মধ্যে আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠিত এবং সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে। এ ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য ভারত সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টায় জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালানো রোধ করতে এবং যদি তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেছে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী হিসেবে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় ভারতকে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় ভারতের হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ভারত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে বলেও উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশের বিবৃতিতে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি ভারত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি। ভারত কখনো তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি। আমরা আশা করি যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।