র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও আসামি।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল আদেশের এই দিন ঠিক করেন। ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়েছে। গতকাল আদেশের জন্য দিন ধার্য থাকলেও আগামী ১৮ ডিসেম্বর নতুন দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে টিএফআই সেলে গুম করে নির্যাতনের ঘটনার এ মামলায় মোট ১০ আসামির মধ্যে ১০ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। তাদের সবাইকে কারা অধিদপ্তরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় গতকাল। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ছাড়া এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশীদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালে গতকাল গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তার অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও আইনজীবী তবারক হোসেন। পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী আমির হোসেন, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও আরও তিন পলাতক আসামির পক্ষে আইনজীবী সুজা মিয়া শুনানি করেন। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা গ্রাউন্ড এনে নিজের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছর অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। গুমের ঘটনায় দুটি মামলার অন্যটিতে আসামি ১৩ জন। জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। গতকাল তাদেরও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
ডিসেম্বরে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পাঁচটি অভিযোগ এনে এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।