বিজয় দিবসে ফ্লাই পাস্ট, প্যারাজাম্প ও বিশেষ অ্যারোবেটিক প্রদর্শন করেছে সশস্ত্র বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় গতকাল তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সশস্ত্র বাহিনীর ৫৩ জনসহ মোট ৫৪ প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের মাধ্যমে আকাশ থেকে ভূমিতে অবতরণ করেন। সবচেয়ে বেশি পতাকা হাতে প্যারাট্রুপিংয়ের বিশ্ব রেকর্ডের এ তথ্য গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডে পাঠানো হবে। ১২ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে এ ফ্রি ফল জাম্পে অংশ নেওয়া এ ৫৪ জন হলেন- সেনাবাহিনীর ৪৬, নৌবাহিনীর ৫, বিমানবাহিনীর দুজন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী ফ্রি ফল জাম্পাররা সুদানে নিহত ছয়জন শান্তিরক্ষীর নাম বুকে ধারণ করেন। এ ফ্রি ফল জাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এবং ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। সংশ্লিষ্টরা জানান, সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো এত সংখ্যক পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের রেকর্ডটি গিনেস বুকে স্থান পেলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এটি হবে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় এবং ভাবমূর্তি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এই আয়োজন দেশে-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় গৌরব ও আত্মপরিচয়ের অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে। সশস্ত্র বাহিনী অনুষ্ঠানে একটি সমন্বিত ব্যান্ড পরিবেশনারও আয়োজন করে।
এর আগে গতকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকা পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় (তেজগাঁও) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ছয়টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়। সবার জন্য উন্মুক্ত এ অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, স্বাধীনতাযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধীকারী, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী।
বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল বাদ্য পরিবেশন করে; আর ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেনানিবাস, ঘাঁটি-সংলগ্ন এলাকায় সীমিত আকারে ব্যান্ড পরিবেশন করা হয়। এদিন বিমানবাহিনী খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, নাটোর, বগুড়া, চট্টগ্রাম শহর ও ফৌজদারহাট এলাকা, কক্সবাজার এবং মাতারবাড়ী এলাকায় সীমিত আকারে ফ্লাই পাস্ট পরিচালনা করে। দিবসটি উদ্যাপনে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজ দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এদিন সামরিক জাদুঘরসহ বাহিনীগুলোর অন্যান্য জাদুঘর বিনা টিকিটে দেখার জন্য খোলা রাখা হয়।
